লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ মেসি বললেন রোষের শিকার তিনি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০১:১১ এএম

ম্যাচের তখন ৩৬ মিনিট। চিলির ডি-বক্সের বাম পাশ দিয়ে পাওলো দিবালার বাড়ানো একটা বল লিওনেল মেসি ধরতে গেলে বাধা দেন চিলির অধিনায়ক গ্যারি মেডেল, সফল হন তিনি। বল বাইরে চলে যাওয়ার পর মেডেলের পেছনে স্বাভাবিক গতিতে ধাক্কা দিয়েছিলেন মেসি যা ফুটবল মাঠে সচরাচর হয়েই থাকে। কিন্তু তেড়েফুঁড়ে ওঠেন মেডেল। প্রথমে হাত দিয়ে ধাক্কা দেন মেসিকে, তারপর বেশ কয়েকবার বুক দিয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। চিলির কয়েকজন সতীর্থ এসে মেডেলকে নিবৃত্তের চেষ্টা করে পারেননি। দৌড়ে আসেন প্যারাগুইয়ান রেফারি মারিও ডায়াজ ডি ভিভার। বিস্ময়করভাবে প্রথমেই তিনি লাল কার্ড দেখান মেসিকে। পরে লাল কার্ড দেখান মেডেলকেও।

বিস্মিত সতীর্থরা অধিনায়কের এমন শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ঘিরে ধরেন রেফারিকে। কিন্তু কাজ হয়নি। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার লাল কার্ড দেখা মেসি বেরিয়ে যান সাও পাওলোর মাঠ থেকে।

মাঠ থেকে বেরিয়ে ড্রেসিংরুমে বাকি খেলা দেখেন লিওনেল মেসি। আর বোঝার চেষ্টা করতে থাকেন কী করেছেন তিনি যে জন্য লাল কার্ড দেখালেন রেফারি। এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন মেসি যে তৃতীয় স্থানের পুরস্কার নিতে যাননি। নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে ড্রেসিংরুমেই থেকে যান। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিস্ফোরিত হয় লিওনেল মেসির কণ্ঠ, ‘আমি কেন যাইনি, কারণ আমি ক্ষুব্ধ, লাল কার্ড পাওয়ার মতো কিছু হয়নি। এই দুর্নীতির অংশ হতে চাই না আমরা। পুরো টুর্নামেন্টেই আমাদের অমর্যাদা করা হয়েছে। দুর্নীতি আর রেফারিরা মানুষকে ফুটবল খেলা দেখতে দিচ্ছে না।’

জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের বিরুদ্ধে যেমন ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলতেন, ঠিক তেমনই শোনায় মেসির কণ্ঠে, ‘(দুই খেলায়) অনেক দুর্নীতি হয়েছে, রেফারিরা... আমরা মনে করি আমাদের ফাইনাল খেলতে দেওয়া হয়নি। ব্রাজিল আর এই ম্যাচটায় আমাদের প্রাপ্য ছিল অনেক। আপনি সৎ, আপনি কিছু বলেছেন তো এরকম কিছু ঘটল...।’ মেসি বলতে থাকেন, ‘আমি আগে যা বলেছি, আপনি উচিত কথা বলতে পারবেন না। এখানে তো প্রমাণিত হলো দেখতেই পাচ্ছেন।’ রেফারি ডায়াজের কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘ম্যাচের আগে তিনি বললেন, দ্যাখো আমি শান্তিপ্রিয়, আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলব, আশা করি সবাই মিলে খেলা চালিয়ে যাব। এবং তিনি প্রথম সুযোগেই আমাকে বের করে দিলেন।’ মেসি বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহই নেই এবার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আশা করব ভিএআর এবং রেফারি পেরুকে লড়তে দেবে, কিন্তু আসলে ব্যাপারটা খুব কঠিন।’

আর্জেন্টিনার বিখ্যাত দৈনিক ক্ল্যারিন পরে রেফারির রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে। সেখানে প্যারাগুইয়ান রেফারি লাল কার্ডের ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘বল ছাড়া প্রতিপক্ষকে কাঁধ দিয়ে গুঁতো মারা হয়েছিল।’

এ ঘটনার আগেই অবশ্য আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। ১২ মিনিটে মেসির পাস থেকে বল পেয়ে সার্জিও আগুয়েরো এগিয়ে নেন দলকে। ১০ মিনিট পর জিওভান্নি লে সেলসোর পাস থেকে গোল করেন দিবালা। ৫৯ মিনিটে লে সেলসো পেছন থেকে আরানগুয়েজকে ধাক্কা দিলে পেনাল্টি পায় চিলি। সেখান থেকে ব্যবধান কমান বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ আর্তুরো ভিদাল। বাকি সময়টা এই ব্যবধান ধরে খেলা শেষ করে আর্জেন্টিনা। তৃতীয় হয় তারা। তবে মন খুলে আনন্দ করতে পারেনি তারা অধিনায়ক লাল কার্ড দেখায়।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়াবার লাল কার্ড দেখলেন মেসি। এর আগে ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচে বল হারিয়ে এক ডিফেন্ডারকে ট্যাকল করায়

শাস্তি পেতে হয়েছিল তাকে। অবশ্য ক্লাব ক্যারিয়ারে কখনো এমন শাস্তি পাননি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত