২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ থাকার পরও মাদক মামলা নিষ্পত্তিতে এখনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কেন গঠন করা হয়নি সে বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি এখতিয়ারবিহীনভাবে মাদক মামলার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
মাদক মামলায় গতকাল সোমবার এক আসামির জামিন শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। আগামী ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে আইন সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুসরাত জাহান। আসামিপক্ষে ছিলেন
আইনজীবী আল ফয়সাল সিদ্দিকী।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২২ জানুয়ারি ইয়াবা ও হেরোইন রাখার অভিযোগে রাজধানীর বংশাল থানায় মাসুদুল হক মাসুদ নামে একজনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। বিচারিক আদালতে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন তিনি। এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী আল ফয়সাল সিদ্দিকী।
তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, জামিন শুনানিতে আদালত দেখতে পান, যে আদালতে (ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালত) এই মামলাটি বিচারাধীন সেই আদালতের এ মামলার বিচার করার এখতিয়ার নেই। ওই আদালতে কীভাবে এই মামলা চলছে সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সংশ্লিষ্ট এই আদালতের বিচারককে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ফয়সাল সিদ্দিকী বলেন, ‘হাইকোর্ট এ সময় উষ্মা প্রকাশ করেন এই বলে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪ ধারায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব মামলা নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। আর যতদিন এ বিষয়ে সরকার গেজেট নোটিফিকেশন না করবে ততদিন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা জজ ও দায়রা জজ তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মাদক মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে হাইকোর্ট এ বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চান। আর শুনানি নিয়ে আসামি মাসুদুল হক মাসুদকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।’
