বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক

পুরুষকে একতরফা সাজার বিধি নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০১:২৭ এএম

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের (ব্যভিচার) সাজা সম্পর্কিত বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একটি ধারা কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। দ-বিধির ওই ধারায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের দায় পুরুষসঙ্গীকে দিয়ে সাজার বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির

ওই ধারা সংশোধন চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। তিন সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্যের স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোনো নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া যৌন সম্পর্ক করে যা ধর্ষণের শামিল নয়, তবে সেই ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তাকে সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। তবে একই ক্ষেত্রে স্ত্রী ওই ব্যক্তির দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য হবে না।

রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, দণ্ডবিধির এই ধারা অনুযায়ী কোনো স্ত্রী কারও সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে শুধু সেই ব্যক্তির শাস্তির বিধান রয়েছে। অথচ স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী কোনো মামলা বা কিছুই করতে পারবে না। একইভাবে স্বামী অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে স্বামী কিংবা ওই নারীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এ ছাড়া এই ধারা অনুযায়ী স্বামী যদি কোনো বিধবা বা অবিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান তাহলে আইনে এর বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক। রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

অনীক আর হক আরও বলেন, ‘পরকীয়ায় যারা আসক্ত হন তারা উভয়েই সমান দোষে দোষী। কিন্তু প্রচলিত আইনটি বৈষম্যমূলক ও ভ্রান্ত। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রুল দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত