জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের পুত্রবধূ মেরিনা শোয়েব (৪৮) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে রাজধানীর ধানমণ্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেনÑ পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, মেরিনা শোয়েব মাদকাসক্ত ও মানসিক হতাশা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা
করেছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি বাসায় একা ছিলেন বলেও তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
ফিরোজ রশীদের পরিবারের বরাত দিয়ে ধানমণ্ডি থানার এসআই জিল্লুর রহমান জানান, ‘রবিবার রাত ৮টার দিকে ধানমণ্ডি ৯/১ সড়কের বাসায় এমপি ফিরোজ রশীদের পুত্রবধূ মেরিনা শোয়েব গুলিবিদ্ধ হন। স্বামীর লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে মেরিনা নিজের শরীরে গুলি করেন। গুলিটি তার পেটে লেগেছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মেরিনাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ আল কাফি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এটা সুইসাইডাল অ্যাটেম্পট (আত্মহত্যার চেষ্টা)। মাদকাসক্তি থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাকে কয়েক দফায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। কিছুদিন আগেও তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয়।’
মেরিনার বাবা চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, ‘ফিরোজ রশীদের ছেলে কাজী শোয়েব রশীদের সঙ্গে মেরিনার ২৮ বছরের সংসার। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা ছিল না। বনিবনা থাকলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।’ মেরিনার গুলিবিদ্ধের ঘটনাটি হত্যার চেষ্টা কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সকালে আইসিইউতে তার (মেরিনা) সঙ্গে দেখা করেছি। সে আমাকে শুধু চিনতে পেরেছে, আর কিছু বলেনি।’ সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শোয়েব বলল, সে নাকি ওই সময় বাড়িতে ছিল না। শোয়েবের স্টেটমেন্ট ধানমণ্ডি থানা পুলিশ নিয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি, তবে মামলা করিনি।’
স্বজনরা জানান, মেরিনা শোয়েবের সঙ্গে কাজী শোয়েব রশীদের তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয়েছিল। তাদের ২০ বছরের এক মেয়ে ও ১১ বছরের এক ছেলে আছে। ছেলে স্কুলে পড়ে ও মেয়ে ‘এ’ লেভেল পাস করেছে। তবে বিচ্ছেদের পরও মেরিনা শ্বশুরবাড়িতে সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। রবিবার রাতে মেরিনা যখন গুলিবিদ্ধ হন তখন বাসায় তার ছেলেমেয়ে, দেবর ও শাশুড়ি ছিলেন। ছেলে ও দেবর ঘরে ক্রিকেট খেলছিলেন। মেয়ে অন্য ঘরে ছিলেন। হঠাৎ করে মেয়ে প্রথম গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে সবাইকে ডেকে ঘরে গিয়ে দেখেন, মেরিনা মাটিতে পড়ে আছেন। তার পাশেই তার বাবার পিস্তলটি পড়ে আছে। পরে মেরিনার মেয়ে তার বাবা ও দাদা ফিরোজ রশীদকে ফোন করে বিষয়টি জানায় এবং তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই সময় সংসদে থাকা কাজী ফিরোজ রশীদ ফোন পেয়ে বাসায় আসেন।
আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা মেরিনার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে ল্যাবএইডের এজিএম (করপোরেট কমিউনিকেশন) সাইফুর রহমান লেলিন বলেন, ‘গুলি তার পিঠ দিয়ে ঢুকেছে। এখন পেটে আছে। রবিবার রাতে তার (মেরিনা) একটি অপারেশন হয়েছে। কিন্তু গুলিটি বের করা যায়নি। গুলির কারণে পেটের ভেতর যেসব ড্যামেজ বা লিকেজ হয়েছিল সেগুলো রিপেয়ার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে আছেন। তাকে আপাতত আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। তবে তার সেন্স আছে।’
এদিকে কাজী শোয়েবের লাইসেন্স করা পিস্তলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে বাড়ির প্রধান ফটকের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
মেরিনার দুই সন্তান পুলিশকে জানিয়েছে, ‘গত কয়েক বছর ধরেই তাদের মায়ের কথাবার্তা ও চালচলন অস্বাভাবিক ছিল। তিনি প্রায়ই তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতেন। কয়েকবার আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন।
কাজী ফিরোজ রশীদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে কয়েক দফায় কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার বাসায় গেলেও সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
