রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় শারমিন আক্তার (২০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করার কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের ভাষ্য, যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা না পেয়ে স্বামী আমির হোসেন (২৮) ঠা-া মাথায় খুন করে শারমিনকে। তার মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে হাত-পায়ের রগ কাটার আগে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আমির। গভীর রাতে খুন করার পর শাশুড়িকে ফোন করে বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ের (শারমিন) লাশ নিয়ে যেতে বলে সে। এর আগেও দুটি বিয়ে করে আমির। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করায় আগের স্ত্রীরাও আমিরকে ছেড়ে চলে যায়।
গত সোমবার বিকেলে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এসআই আল আমিন শেখের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকা থেকে আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমির হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানায় পিবিআই। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে শারমিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান ব্যুরোর প্রধান ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার। তিনি জানান, শারমিনকে হত্যা করার পর আমির চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি বাসায় লুকিয়ে ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত সোমবার বিকেলে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ডিআইজি বলেন, গত ৩০ জুন শারমিনের কাছে ১০ হাজার টাকা যৌতুক চায় আমির। শারমিন তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমির ১ জুলাই সকালে তার শাশুড়ি ফজিলাত বেগমকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তা না হলে মেয়েকে হত্যা করে খাটের নিচে ফেলে রাখবে বলে জানায়। পরে ২ জুলাই আমির শারমিনকে হত্যা করে শাশুড়িকে ফোন করে বলে, ‘টাকা তো দিলা না, খাটের নিচ থেকে লাশ নিয়া দাফন কইরো।’ এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ ফজিলাত বেগমকে ফোন করে পঙ্গু হাসপাতালে আসতে বলে। সেখানে গিয়ে মেয়ের লাশ পান তিনি।
