বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের দুই সদস্য মার্জিয়া আক্তার ও সাজেদা খাতুন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন সপ্তাহখানেক আগে। কিন্তু তাদের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায়। দুজনের চিকিৎসা চলছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জ্বর কমলেও তারা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার। তাদের সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এদিকে রাজধানীতে উন্নতমানের চিকিৎসার বদলে এ দুই ফুটবলারকে বাড়ি আসতে সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের (বাফুফে) গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে দায় বাফুফেকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামের বাসিন্দারা।
দেশের নারী ফুটবলার তৈরির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রাম। এ গ্রামের সানজিদা, মার্জিয়া, সাজেদা, মারিয়া, তহুরারা দেশের ফুটবলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দুই ফুটবলারের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাফুফের অধীনে আবাসিক ক্যাম্পে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অনুশীলনে ছিলেন মার্জিয়া ও সাজেদা। এ অনুশীলন চলাকালেই সপ্তাহখানেক আগে তারা জ্বরে আক্রান্ত হন। ওই সময় তাদের সেখানেই রক্ত পরীক্ষা করানো হয়।
স্থানীয় কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মালা রানী সরকার জানান, মার্জিয়া ও সানজিদা জানিয়েছেন এক সপ্তাহ ধরে তারা জ্বরে ভুগছেন। এমন অবস্থায় গত রবিবার মার্জিয়ার ভাই রাশেদুল ইসলাম তাদের ঢাকা থেকে ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গত সোমবার রাতে ফুটবল ফেডারেশন থেকে রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানানো হয়, তারা দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার রক্তের পরীক্ষার কাগজপত্র না থাকায় ফুটবল ফেডারেশন থেকে আমাদের স্কুল ফুটবলের কোচ জুয়েল মিয়াকে তা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার (গতকাল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি আমার ফেইসবুকের মেসেঞ্জারে ওইসব কাগজপত্র পাঠান। আমি সেগুলো প্রিন্ট করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মার্জিয়া ও সাজেদাকে ভর্তি করি।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ দুই কৃতী ফুটবলারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চিকিৎসা দিচ্ছে। এরই মধ্যে তাদের আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ বুধবার এসবের রিপোর্ট হাতে আসবে। তবে শরীর দুর্বল থাকার কারণে তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বাফুফে কোনো অবস্থাতেই এমন জটিল দুই রোগীকে ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে ঠিক করেনি। তাদের পরিবার ভুল করলেও বাফুফের গুরুত্ব দিয়েই পুরো বিষয়টি অনুধাবন করা দরকার ছিল। এখন যদি কোনো অঘটন ঘটে, তবে তার দায় বাফুফেকেই নিতে হবে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সাজেদার শরীর একটু গরম গরম লাগছে। তবে মার্জিয়ার জ্বর নেই। তার পায়ে ও শরীরে ব্যথা। আর সাজেদার মাথা খুব ভার ও পেটে ব্যথা অনুভব করছে। তবে দুজনেরই শরীর দুর্বল।
এসব বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে শুরু থেকেই ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি হলে বিপদ ঘটার আশঙ্কা থাকে। ওদেরকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
