স্কুলে ‘অভিযোগ বাক্স’ রাখার মৌখিক নির্দেশনা হাইকোর্টের

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০২:২৮ এএম

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন রোধে সারা দেশের প্রতিটি স্কুলে ‘অভিযোগ বাক্স’ রাখার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বুলিং (শারীরিক ও মানসিক উৎপীড়ন) নিরোধ কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন

দাখিলের শুনানিতে গতকাল বুধবার এ নির্দেশনা দেয় বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও জ্যোতির্ময় বয়া।

হাইকোর্ট বলেছে, প্রতিটি স্কুলে শিশুদের নির্যাতনের অভিযোগ শোনার জন্য একটি অভিযোগ বাক্স রাখা যেতে পারে। শিশুরা তাদের অভিযোগগুলো মা-বাবা, স্কুলের শিক্ষক কারও কাছেই বলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে স্কুলে একটি অভিযোগ বাক্স রাখলে তারা নির্ভয়ে অভিযোগ লিখতে পারবে।

আইনজীবী অনীক আর হক দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘অরিত্রি আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে বুলিং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে যে নীতিমালা ও সুপারিশ করা হয়েছিল, তার সংজ্ঞাই ঠিকমতো তারা নির্ধারণ করতে পারেনি। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় আমাদের কাছে অপর্যাপ্ত ও অগোছালো মনে হয়েছে। সেগুলো আমরা সংশোধনের সুপারিশ করেছি। শুনানির সময় আদালত একপর্যায়ে বুলিং রোধে স্কুলগুলোতে অভিযোগ বক্স রাখার পরামর্শ দিয়েছে।’  

আদালতের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, নির্যাতন প্রতিরোধে স্কুলে অভিযোগ বাক্স রাখার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টিকে প্রচার করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়ে পক্ষভুক্ত করা যায় কি না সেটি খতিয়ে দেখার কথা বলেছে আদালত। পাশাপাশি নির্যাতন প্রতিরোধে স্কুলে যে কমিটি থাকবে, সে কমিটির প্রধান যদি স্কুলের প্রধান হন এবং তার বিরুদ্ধেই যদি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তা হলে কমিটি তদন্ত কীভাবে করবে সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালত বলেছে, এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে ওই কমিটিতে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত