শরীয়তপুরের জাজিরায় কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় পৌর মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারীকে আবারও কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।
এর আগে ৮ দিন কারাগারে থাকার পর গত সোমবার বিকেলে জামিনে মুক্ত হয় মাসুদ। এর প্রতিবাদে গত বুধবার শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলার বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।
গত ২৯ জুন রাতে জাজিরার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। মেয়রপুত্র মাসুদ তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলে। এরপর দুই দফা ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। ৩০ জুন দুপুরে জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে ওই ছাত্রী। ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলে, ‘মাসুদ আমার আত্মীয়। তারপরও ধর্ষণ করতে পিছপা হয়নি। আমি তার পায়ে ধরে কেঁদেছি, রেহাই পাইনি। মাসুদ মুক্ত হওয়ার পর চাপে ছিলাম। তাকে আবার কারাগারে দিয়েছে শুনলাম। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি চাই।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিকে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নি। তখন আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এভাবে গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে দ্রুত সময়ে জামিন দেওয়া হলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার মাসুদ দায়রা ও জজ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে জামিন দেয়নি।
