বাজারে থাকা বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট) নিবন্ধিত কোম্পানির পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধ পরীক্ষা করতে চার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক, এসিডিটি, কলিফর্ম, টোটাল প্লেট কাউন্ট (টিটিসি), ডিটারজেন্ট ও ফরমালিনের অস্তিত্ব আছে কি না তা পরীক্ষা করতে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়। আদালত আদেশে বলেছে,
পরীক্ষা শেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
আইসিডিডিআর-বি (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ), জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বিসিএসআইআর (বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ) ও সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে এসব দুধের পরীক্ষা করতে হবে। বিএসটিআইকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির দুধের নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ২৩ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে দুই দফা গবেষণায় বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির দুধে তরল ও প্যাকেটজাত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পাওয়ার মধ্যে গতকাল হাইকোর্ট থেকে এমন নির্দেশনা এলো।
গত ২৫ জুন অধ্যাপক ফারুক জানান, বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের নমুনায় তারা মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পেয়েছেন। তবে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাজারে দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এ গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরই মধ্যে গত শনিবার অধ্যাপক আ ব ম ফারুক তার দ্বিতীয় দফা গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে জানান, বাজার থেকে সংগৃহীত দুধের ১০টি নমুনার ১০টিতেই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।
বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ নিয়ে সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি-র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। পরে এই প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী তানভির আহমেদ। এরই ধারাবাহিক শুনানিকালে গতকাল এসব আদেশ আসে। আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক।
দুধের বিষয়ে যেসব ক্যাটাগরিতে পরীক্ষা করা হয় এর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্ট পরীক্ষার সক্ষমতা বিএসটিআইয়ের আছে কি না তাও জানতে চায় আদালত। বিএসটিআই কখনো দুধের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করেছে কি নাÑ এ নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।
বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন আদালতকে জানান, বিভিন্নভাবে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করে। কিছু খামারি ও কৃষক গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন গরুর শরীরে পুশ করেন। তিনি জানান, দুধের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করার প্যারোমিটার বিএসটিআইতে আগে ছিল না। কিন্তু এখন মান পরীক্ষার বিষয়ে প্যারোমিটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি কমিটি করে দুধের মান পরীক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আদালত বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, এসব দুধ এখনো কেন বাজারজাত হচ্ছে। যদি খাদ্য নিরাপদ করতে না পারা যায়, তাহলে হাইটেক ল্যাব রেখে লাভ কি?
দুধের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন নিয়ে বিএসটিআই কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে জানতে চায় হাইকোর্ট। আইনজীবী জানান, বিএসটিআইয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি করে আইসিডিডিআর-বি, বিসিএসআইআর এবং বিএসটিআইয়ের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে আদালত বিএসটিআইয়ের দীর্ঘ সময় নিয়ে পরীক্ষা করার প্রস্তাবের আবেদনে সাড়া দেয়নি।
