১১ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর সিসা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ০১:১৯ এএম

মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদিত ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টির পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সিসা ও ক্যাডিমিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া খোলা তরল দুধের ৫০টি নমুনার বেশিরভাগে সিসা ও ক্যাডিমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দুধের এসব নমুনা পরীক্ষা করে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আদেশ ও রুল জারি করে। ক্ষতিকর সিসা ও ক্যাডিমিয়ামের বিষয়ে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে আগামী ২৮ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে হাইকোর্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিডিডিআর-বি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চের ল্যাবে পাস্তুরিত, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করে সংস্থাটি। যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের পাস্তুরিত দুধে সিসা মিলেছে

 

সেগুলো হলোÑ প্রাণ মিল্ক, মিল্কভিটা, আড়ং ডেইরি, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আলট্রা মিল্ক, আইরান মিল্ক, পিউরা মিল্ক ও সেইফ মিল্ক।

আদেশে আদালত বলেছে, পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া গাভীকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বা শরীরে তা পুশ করা যাবে না। এছাড়া জনস্বার্থে বাজারে থাকা দুধের মান পরীক্ষা ও গবেষণার জন্য একটি তহবিল গঠনে অর্থ সরবরাহ করতে দুধ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। বিএসটিআই ও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত দুধ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে এ রুলের জবাব দিতে হবে।

নিরাপদ দুধ নিশ্চিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, ‘এ নিয়ে কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। আমরা বিশুদ্ধ দুধ চাই।’ আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক।

এ নিয়ে ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্টের বিষয়ে কোনো পরীক্ষা করেনি। কেননা ২০০২ সালে বিএসটিআই পাস্তুরিত দুধের যে মান নির্ধারণ করেছিল, এর ভিত্তিতেই বাজারে থাকা দুধের নমুনা পরীক্ষা করে এই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি কোম্পানির দুধে এবং খোলা দুধের ৪০টির বেশি নমুনায় সিসা ও ক্যাডিমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)  আর্থিক সহায়তায় গোখাদ্য, দুধ, দই ও বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষায় গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসার উপস্থিতির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিতায় আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন দিল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত