বাংলাদেশের পাঁচটি অনুন্নত জেলার মধ্যে গাইবান্ধা অন্যতম। উন্নয়নের দিক দিয়ে গাইবান্ধা অনেক পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এই জেলায় প্রায়ই প্রাকৃতিক বিপর্যয় লেগেই থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হলো, অধিকাংশ অঞ্চলই নিম্নভূমি এবং যমুনা নদী ও তিস্তা নদীর মুখবেষ্টিত চরাঞ্চল। তাই আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এসব নিম্নভূমি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষরা বন্যার মুখোমুখি হয়। তবে এ বছর বন্যা আগের মাত্রা ছাড়িয়েছে কয়েক গুণ। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বিপৎসীমার ১৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি। ভয়ের বিষয় হলো, পানি ক্রমেই বাড়ছে তো বাড়ছেই। গত দুই দিন হলো কোনো ধরনের বিদ্যুৎ এবং মোবাইলের নেটওয়ার্ক সংযোগও নেই। দুই লক্ষাধিক মানুষ এখন গৃহহারা, ৯৫ শতাংশ ঘরবাড়ি প্রায় সম্পূর্ণ পানির নিচে। আসবাবপত্র ভেসে যাচ্ছে বন্যার পানিতে। কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় মানুষ যে কষ্টে আছে, তা বর্ণনাতীত! প্রত্যেকটি মানুষ শুকনা খাবার এবং সুপেয় পানির অভাব চরমভাবে উপলব্ধি করছে।
এমতাবস্থায় ওই অঞ্চলের মানুষ সরকার ও বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। সামান্য কিছু সাহায্য পেলে অনেক বেশি উপকৃত হবে তারা। বিশেষ করে শুকনা খাবার, স্যালাইন এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা তাদের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার ও দাতাগোষ্ঠীর এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
জসিম উদ্দীন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
