ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বমানের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩:১৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও উন্নত এবং বিশ্ব মানসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। স্বাভাবিকভাবেই একটি স্বাধীন দেশের উপযুক্ত সশস্ত্র বাহিনী যেটা জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন, তাকে আরও উন্নতমানের এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সব সময় আমাদের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পিজিআর সদস্যরা ‘নিñিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সাহস, আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার অসামান্য দূরদর্শিতায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সকলকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। পেশাগত প্রয়োজনে পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে প্রতিদিন সাক্ষাতের উল্লেখ করে তিনি তাদেরকে তার পরিবারের সদস্য হিসেবেও মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছলে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম তাকে স্বাগত জানান। পিজিআরের একটি সুসজ্জিত দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী পিজিআরের বীর সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে অনুদান এবং উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পরই তার সরকার পিজিআর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রথম ঝুঁকি ভাতার প্রবর্তন করে। আপনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ইতিমধ্যে সেনানিবাসে একটি ইনডোর পিস্তল ফায়ারিং রেঞ্জের কার্যক্রম স¤পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়াও রেজিমেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৩ সালে তিনি এর জনবল বৃদ্ধিসহ পিজিআরকে একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্টে রূপান্তরিত করার ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) সংযুক্তের ব্যবস্থা এবং এর সদস্যদের বাসস্থলের জন্য ইতিমধ্যে একটি ১৪ তলাবিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা নিরাপত্তা প্রদান করবে, তাদের নিরাপত্তার কথাটাও আমাদের ভাবতে হয়, চিন্তা করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় পিজিআরের বিভিন্ন সময়ে শাহাদাত বরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত