বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির গ্রেপ্তার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বলা হয়, কারও প্ররোচনায় মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা উচিত। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল কমিটিকে আশ্বস্ত করে বলেন, রিফাত হত্যার গুড অ্যান্ড বেটার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো উপসংহার টানা যাবে না। কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠক শেষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, ‘মিন্নির গ্রেপ্তারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে ঘটনার সঠিক তদন্ত চাওয়া হয়েছে। আইনের ঊর্ধে কেউ না, তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্টতা পেলে যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তদন্তাধীন মামলার সম্পর্কে আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের মুখোমুখি করার অনুশাসন দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তদন্ত সঠিক পথে চলছে। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদেরই আইনের মুখোমুখি করা হবে।’
সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, সভায় কমিটির সদস্য ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান প্রশ্ন তোলেন মিন্নির গ্রেপ্তার বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘কেউ দোষী হলে তার শাস্তি হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু কারও প্ররোচনায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি নাÑ তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে পীর ফজলুর বলেন, ‘মিন্নিকে কারও প্ররোচনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সেই আলোচনাও বিভিন্ন মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও জানতে চেয়েছি।’
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে উপসংহার টানার সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দোষী যেই হোক, তা প্রকাশ করা হবে।’
