সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপের কথা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বলা হলেও পেনশনার সঞ্চয়পত্রে যারা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করবেন, তাদের করহারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর নেবে সরকার। গত ২ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। তাতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীসহ অন্য সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করতে তফসিলি সব ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর বিধি) শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের হার পরিবর্তন করে ৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সব সঞ্চয়পত্রের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কর্তন করতে হবে। শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মোট ৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে বিনিয়োগের সুদ পরিশোধকালে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে। এ বিধান ১ জুলাই ২০১৯ থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ যখনই কেনা হোক না কেন, ২০১৯ সালের ১ জুলাই বা তারপর দেওয়া সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে নতুন হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
এর আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর নির্দেশনা জারি করে বলে যে, নতুন-পুরনো সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও মৃত চাকরিজীবীর পারিবাবিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।
৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদান্তে সুদ পাওয়া যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। প্রাপ্য আনুতোষিক ও ভবিষ্য তহবিলের অর্থ মিলিয়ে একক নামে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বনিম্ন বিনিয়োগ করা যায় ৫০ হাজার টাকা। পূর্ণ মেয়াদের জন্য ১ লাখ টাকায় প্রতি ৩ মাস অন্তর মুনাফা পাওয়া যায় ২৯৪০ টাকা। এই মুনাফা থেকে বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার কম হলে ৫ শতাংশ ও ৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে।
