রেনুকে পিটিয়ে হত্যা মূল আসামি হৃদয় গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০১:২৯ এএম

ছেলেধরা গুজবে রাজধানী ঢাকার বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনু (৪২) নামে এক নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা মাঝিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর মিন্টো রোডে ডিবির প্রধানকার্যালয়ে নেওয়া হয়।

গত শনিবার উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় রেনুকে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি তার মেয়েকে ভর্তির তথ্য জানতে স্কুলটিতে গিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা ডিবির ইস্ট ডিভিশনের ডেমরা জোনাল টিমের সিনিয়র এসি নাজমুল হাসান ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে জানান, নারায়ণগঞ্জের ভুলতা মাঝিপাড়া গ্রামে অবস্থিত হৃদয়ের ছোটখালা খালেদার বাড়ি থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, ‘হৃদয় বাড্ডার ওই স্কুলের সামনের সবজি বিক্রেতা। তার বাসা বাড্ডার হাজিপাড়ার হাসান আলী রোডে। তার বাবার নাম হারুনুর রশিদ ওরফে পাগলা হারুন। ঘটনার সময় তার পরিহিত পোশাক উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। নারায়ণগঞ্জের নাওরা নামক গ্রামে ফুপুর বাড়িতে পোশাক আছে বলে সে জানিয়েছে।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-পূর্ব) ইলিয়াস শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও বাকি আসামিদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আজ বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গতকালই বিকেলে হৃদয় সন্দেহে শাহবাগ থানা পুলিশ গুলিস্তান এলাকা থেকে এক যুবককে আটক করে বাড্ডা থানায় হস্তান্তর করে। পরে যাচাইবাছাই শেষে তাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মর্মান্তিক ওই ঘটনায় রেনুর বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন টিটো বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় হৃদয়ের আগে গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে জাফর নামে একজন গত সোমবার বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮) ও বাপ্পী (২১) নামে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সোহরাব হোসেন জানান। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও কামাল হোসেন (৪০)। গ্রেপ্তার সবাই উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত