জামালপুরে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০১:৫৫ এএম

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও খাদ্যসহ বিভিন্ন সংকটে দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের। নীলফামারীর বাঁধ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদ, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বেড়েছে তিস্তার পানি, যাতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় ফরিদপুরে ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত নৌপথে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

গতকাল দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া অন্য সব প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল কমছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সংলগ্ন ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল ও মেঘালয়ের কিছু স্থানে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে সুরমা, কুশিয়ারার পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে যমুনার পানি এখনো বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে এখনো অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে। জেলায় ফসলি জমিসহ বেশিরভাগ জায়গা পানির নিয়ে তলিয়ে থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষরা কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এখনো সব মানুষ ত্রাণ সহায়তার আওতায় না আসায় দুর্ভোগ কমেনি দুর্গতদের। পানিতে চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪৩০ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গতকাল বাঁধ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত সোমবার ওই পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ ছিল বিপদসীমা বরাবর।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদসহ ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি। কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে প্রতিদিনই; রয়েছে বিশুদ্ধ পানিসহ পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব। গতকাল সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় তিস্তায় বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার পানি। এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিমোহিনী ও বাদিয়াখালী রেলপথ মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে নতুন করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এক হাজার মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা ও পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। বন্যার কারণে এ পর্যন্ত সদর উপজেলায় একজন, সাঘাটা উপজেলায় দুজন ও গোবিন্দগঞ্জে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২২৩টি গ্রামের মানুষ বন্যার পানিতে বন্দি রয়েছে। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি পর্যন্ত নৌপথে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় স্রোতের তোড়ে এই নৌপথে ১৮টি ফেরির মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে চলে ১০টি ফেরি। তবে স্বাভাবিক রয়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত