‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হওয়ার আতঙ্ক গত দুদিনে কমে এসেছে। তবে এখনো এটি পুরোপুরি কাটেনি। গতকাল বুধবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে কয়েকজনকে ধরা হলেও কেউই গণপিটুনির শিকার হননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাড়ায়-মহল্লায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং, সামাজিক উদ্যোগ, গত সোমবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজানের আগে মসজিদগুলো থেকে গুজবে কান না দেওয়া সংক্রান্ত বিবৃতি এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সতর্কতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারে গণপিটুনি কমেছে। সেই সঙ্গে গত সাত দিনে গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের ধরপাকড় ও রিমান্ডের ঘটনাও কাজে লেগেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই গুজবের উৎস খুঁজে বের করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে ইউটিউব, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ফেইসবুকে কারা, কীভাবে এসব গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তা বেরিয়ে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গুজব ও গণপিটুনি বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সোচ্চার। নিরপরাধ মানুষকে গুজবে ফেলে যারা প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরও ছাড়া হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সব মাঠে নেমে গেছেন। প্রতিটি স্কুলের আশপাশে সাদা পোশাকে আমাদের বাহিনী কাজ করছে। মসজিদ থেকে ঘোষণা হচ্ছে, প্রতি ওয়াক্তে। আমরা প্রতিরোধে নেমেছি।’
এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বিএনপি-জামায়াতের উসকানি। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে তারা এখন দেশের মানুষকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার এটি শক্ত হাতে মোকাবিলা করছে।’
আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে কাউকে সন্দেহ হলে জরুরি হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গত দুদিনে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির হার কমেছে এবং সতর্ক নম্বরে অনেক ফোন এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই স্কুল-কলেজে আতঙ্ক কাটবে।
এদিকে গতকাল নতুন করে ‘বিদ্যুৎ থাকবে না’ সংক্রান্ত গুজব তৈরি হয়েছে। একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এমন রটনা ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আগামী কয়েক দিন বিদ্যুৎ থাকবে না’ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানোর মধ্যেই গতকাল বিষয়টি পরিষ্কার করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘কোনো একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে রটাচ্ছে দেশে বিদ্যুৎ থাকবে না। এটা পুরোপুরি গুজব এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চাহিদার বিপরীতে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) পিক আওয়ারে গ্রস বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১১ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট। কোথাও লোডশেডিং ছিল না। আজ বা আগামীকাল বা অন্যান্য দিনও চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫১ মেগাওয়াট।’
অন্যদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুবাই থেকে গুজব ছড়ানো ফেইসবুকের একটি পোস্ট প্রথম নজরে আসে। পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছে।’ গুজব মোকাবিলায় সবার সহযোগিতার পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশের ‘সচেতনতা সপ্তাহ’ পালনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগের পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ জানান, গণপিটুনি সম্পর্কে গত কয়েক দিন ধরে বেশি পরিমাণে ফোন পেয়েছেন তারা। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত কোনো ছেলেধরার ঘটনা পায়নি তারা। সম্পূর্ণ গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে একটি মহল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন। পাশাপাশি সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
