লিবিয়া উপকূলে একটি নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১১৬ অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছে। লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করেছে ১৩২ জনকে। দেশটির নৌবাহিনীর মুখপাত্র আইয়ুব কাসেম গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
কাসেমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নৌকাটিতে ২০০ জনের বেশি অভিবাসী ছিল। রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বদিকের শহর কোমাসের উপকূলে এটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘের অভিবাসীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছিল, ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৫০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে এটিই হবে
সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। লিবিয়া অভিবাসীদের কেন্দ্রস্থল। দেশটি থেকে সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌকায় করে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে তারা।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র চার্লি ইয়াক্সলি জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের তুলে আনেন জেলেরা। পরে লিবিয়ার কোস্টগার্ড তাদের তীরে নিয়ে আসে।
ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের অন্য সংস্থাগুলো জীবিতদের লিবিয়ায় ফেরত না দিতে বারবার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলোর ভাষ্য, সংঘাতপীড়িত দেশটিতে উদ্ধার হওয়া অভিবাসী ও শরণার্থীদের অমানবিক পরিবেশে নিয়মিত কারাগারে পাঠানো হয়। লিবিয়ায় যুদ্ধের বলি হওয়ারও আশঙ্কা থাকে তাদের।
চলতি মাসের শুরুতে ত্রিপোলির উপকণ্ঠে একটি বন্দিশালায় বিমান হামলায় ৪৪ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয় আরও ১৩০ জন। লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত ঘাসান সালাম ওই হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, পরিষ্কারভাবে একে যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য বলা যায়। ওই হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানায়। হামলাটির জন্য লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার খলিফা হাফতারের বাহিনীকে দায়ী করা হয়। ওই সময় বন্দিশালাটিতে ৬০০ জনের বেশি মানুষ ছিল।
