রাজধানীর মালিবাগে প্রায় দুই বছর আগে তৈরি করা পাবলিক টয়লেট এখনো চালু হয়নি। সব কাজ শেষ হলেও পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় এটি চালু করা যায়নি। এত দিনে ময়লা-আবর্জনা জমে পরিত্যক্ত অবস্থা টয়লেটটির। এ অবস্থার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর দোষ চাপাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্র্তৃপক্ষ। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চালু করার কথাও জানিয়েছে তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটটির তালাবদ্ধ কলাপসিবল গেটের ভেতরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দরজাগুলোও ক্ষয়ে যাওয়ার উপক্রম। বাইরের দেয়ালে আঁকাজোকা। দেয়ালের পাশেই পথচারীরা প্রশ্রাব করে পরিবেশ নোংরা করে রেখেছে। দুপাশে ফুটপাত ছাড়িয়ে বেশ কিছু ভাসমান পরিবার তাঁবু টানিয়ে বসবাস করছে। টয়লেটটি চালু হলে তাদের জন্য উপকার হতো বলে জানিয়েছে তারা। আজমত নামে একজন বাসিন্দা জানান, ‘দুই-আড়াই বছর ধরেই দেখতেছি এটা তালা দেওয়া অবস্থায় পড়ে আছে। চালু হলে আমাদেরও উপকার হতো।’ স্থানীয় একজন চা দোকানদারও বললেন, প্রায় দুই বছর ধরে টয়লেটটি এভাবে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। খিলগাঁও-মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টারের অদূরেই পাবলিক টয়লেটটির অবস্থান। মালিবাগ রেলগেট থেকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের দিকে যাওয়ার প্রশস্ত এ রাস্তার দুই পাশে বাসাবাড়ি কম। পথচারীরা দূর থেকে দেখে টয়লেটটির কাছে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে বিপাকে পড়েন। চালু না হলেও গুগল মানচিত্রে টয়লেটটি চিহ্নিত করা আছে। মাশফিক নামে এক পথচারী বলেন, ‘দুদিন আগে গুগল ম্যাপে টয়লেটটির অবস্থান দেখে কাছে গিয়ে দেখি তালাবদ্ধ। সেদিন খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।’ ওই স্থানটি বাহন ও নূর-এ-মক্কা বাসের শেষ স্টপেজ। বাসের চালক, সহকারী ও কর্মচারীরা সারা দিনই ওখানে অবস্থান করেন। তারাও বললেন, টয়লেটটি চালু হলে তাদের উপকার হবে।
ডিএসসিসি এলাকায় বর্তমানে ২৮টি পাবলিক টয়লেট চালু রয়েছে। আরও অন্তত ১৯টি তৈরির কাজ চলছে। জানতে চাইলে ডিএসসিসির অঞ্চল-২-এর নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পানির ট্যাংকি স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগসহ পাবলিক টয়লেটটির কিছু কাজ বাকি আছে। ঠিকাদার কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দিলে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার করে চালু করব। স্থানীয়রা প্রায় দুই বছরের কথা বললেও তিনি এক বছর এটি পড়ে থাকার কথা স্বীকার করেন। ঠিকাদার কাজ শেষ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প। আমাদের তেমন কিছু করার নেই। ২০-২৫ দিন আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশা করছি এক-দেড় মাসের মধ্যেই টয়লেটটি চালু করতে পারব।’
