ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মিনহা রাফিদা (১৭) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে এসিড নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধ ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাগলা থানার তারাটিয়া গ্রামের গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। মিনহা আনসারনগর গ্রামের সালাউদ্দিন খানের মেয়ে ও পাঁচবাগ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
মিনহার বড় ভাই নুর উদ্দিন খান জানান, অন্যান্য দিনের মতোই বাড়ি থেকে হেঁটে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল মিনহা। গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়কের তারাটিয়া গ্রামের বাঘের বাড়ির কাছে এলে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত সামনে এসে তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
নুর উদ্দিন খান দগ্ধ ছোটবোনের বরাত দিয়ে আরও জানান, ওই যুবকদের চিনতে পারেনি মিনহা। তবে এসিড নিক্ষেপ করার সময় মোটরসাইকেলের চালক পেছনে থাকা যুবককে বলছিল, ‘এই মেয়ে না, এই মেয়ে না।’ মিনহার সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব বা ঝামেলা নেই। অন্য মেয়ে মনে করে মিনহাকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম জানান, মিনহার মুখ ও থুতনির সামান্য কিছু অংশ ও বাম হাতের তালুর উল্টা পাশে সামান্য কেমিক্যাল বার্ন হয়েছে। তবে এটি এসিড কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বলা যাবে। তার অবস্থা গুরুতর নয়। তাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ওসি শাহিনুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মুখে সামান্য এসিড লেগেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
