পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়ন

১৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে বিআইডব্লিউটিএ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০২:৫২ এএম

আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রসারে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়ন করতে চায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এজন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে নেওয়া এই প্রকল্পের চূড়ান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এসেছে পরিকল্পনা কমিশনে। অনুমতি পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সাল নাগাদ এই অর্থ ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

ডিপিপি থেকে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ৬৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৫ দশমিক ৮০ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ১২ লাখ ২ বর্গমিটার আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ বহুতল টার্মিনাল বিল্ডিং ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ, ৯ হাজার ৭৫০ বর্গমিটার সীমানাপ্রাচীর ও ফেন্সিং কাজ, ১ হাজার ৩৪০ বর্গমিটার স্টিল জেটি নির্মাণ, ৮ হাজার মিটার নদী শাসনের কাজ, ৬ হাজার ৫২০ বর্গমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৩২টি স্টিল স্পাড, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া এলাকায় ২২টি পন্টুন স্থাপন করা হবে।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, যমুনা ও মেঘনা নদীর ওপর সেতু সংযোগসহ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। কিন্তু এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কপথের যোগাযোগ এখনো ফেরিনির্ভর। যদিও ফেরি সার্ভিসের পরিবহন ক্ষমতা এখনো সীমিত। বাস ও হালকা যানের জন্য ফেরি পারাপারে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা, আর ট্রাক পারাপারে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া পদ্মা নদীর অস্থিরতার কারণে প্রায়ই ঘাটের সংযোগস্থল পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এজন্য নিরাপদ পারাপারে এই বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এই প্রকল্পের ওপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পের বেশ কিছু খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে ৩১টি নতুন অঙ্গ (কম্পোন্যান্ট) যোগ করে নতুন ডিপিপি পাঠানো হয়। এর মধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ভবন নির্মাণ ব্যয় ৩৭৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ভূমি উন্নয়ন বাবদ ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, অন্যান্য ১৫টি খাতে ৪৪৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চায় বিআইডব্লিউটিএ।

এ বিষয়ে তৎকালীন চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবনা অনুসারে মারফোলজিক্যাল স্টাডি সম্পাদন করে এই ব্যয় যুক্ত করা হয়েছে। এজন্য এটি বাস্তবসম্মত।

ডিপিপিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং একমাত্র আন্তর্জাতিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে ঘাটে নৌযানের আগমন, নির্গমন ও ফেরি পারাপারের লক্ষ্যে অপেক্ষমাণ যাত্রী এবং পরিবহনের মাধ্যমে উন্নত টার্মিনাল ও পার্কিং সুবিধার সৃষ্টি হবে। এছাড়া আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দীন পাঠান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই ধরনের আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে না। তবে সড়ক ও আনুষঙ্গিক কাজে দ্বৈততা পরিহারে সড়ক বিভাগের সঙ্গে কাজে সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ার মধ্যে যাত্রী ও যান চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে পর্যটন ও আগ্রহী যাত্রীদের পদ্মা নদী ভ্রমণ বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে ৮ হাজার মিটার নদীশাসন প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকে সহজতর করবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, নিয়ম অনুসারে এই প্রকল্পের সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত