মিয়ানমারের হাতে রোহিঙ্গার নতুন তালিকা দিলো বাংলাদেশ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৬:১৮ পিএম

প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের হাতে আশ্রয়গ্রহণকারী ২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন একটি তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী সেপ্টেম্বরেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সোমবার মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নতুন তালিকায় যে রোহিঙ্গাদের নাম এসেছে, তারা ছয় হাজার পরিবারের সদস্য। ২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন চুক্তি হওয়ার পর সব মিলিয়ে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারের রাখাইনে তাদের ভিটায় ফিরে যেতে পারেনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব কামরুল আহসান; আর মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে।

কামরুল আহসান প্রত্যাবাসন শুরু করতে এই বিলম্বের জন্য ‘আস্থার সংকটকেই’ সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এটা ছিল মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের এ ধরনের প্রথম সফর, যেখানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রথম দাবি মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব। তারপর তারা চলাফেরার স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা এবং নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা চায়।

তিনি বলেন, এক সফরে সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের (মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের) আরও বেশ কয়েকবার আসতে হবে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি হয়। আমরা জোর করে কাউকে ফেরত পাঠাব না।

কামরুল আহসান জানান, এর আগে দুই দফায় যে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৮ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের কাজ মিয়ানমার শেষ করেছে। এই আট হাজার রোহিঙ্গা এখন চাইলে যে কোনো সময় তাদের দেশে ফিরে যেতে পারেন। 

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকেই তারা প্রত্যাবাসন শুরু করতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি বলেন, তাদের স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত, তাদের গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু বিষয়টা হল, ফিরবে কি না- সে সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে হবে।

মিন্ট থোয়ে বলেন, রোববার কক্সবাজারে গিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের উদ্বেগ আর দাবির কথা শুনেছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের তথ্য দিয়েছেন। এখন তারা কখন যেতে চায়, এটা তারাই ঠিক করবে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করব। কক্সবাজারে আমরা আরও যাব, আমাদের প্রস্তুতি তাদের জানাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত