বাবাকে হত্যার অভিযোগে ভাইবোন গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০২:১৬ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মহিবুল্লাহ (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তার দুই সন্তানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো নিহত মহিবুল্লাহর ছেলে শামীম হাসান (২২) ও মেয়ে মহসিনা আফরোজ প্রীতি (২৫)। গত রবিবার গভীর রাতে মোমেনবাগের সালাহউদ্দিন আহমেদ আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের একটি বাড়িতে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেমেয়ে মিলে বাবা মহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে শামীম বেসরকারি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রীতি কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান দেশ রূপান্তরকে জানান, মাকে মারধরের ‘প্রতিশোধ’ নিতে ভাইবোন মিলে বাবা মহিবুল্লাহকে হত্যা করে। পরে হত্যার দায় থেকে রক্ষা পেতে বাড়িতে ডাকাতির নাটক সাজায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।

পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খান বলেন, ‘গত শনিবার গভীর রাতে কোনাপাড়ার মোমেনবাগের নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধ ও

মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় মহিবুল্লাহকে। তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে ছেলে শামীম ও মেয়ে প্রীতিকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পারিবারিক কলহ ও বাবার ওপর দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের কারণে তাকে গলা টিপে ও কাচের গ্লাস দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন সন্তানরা। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি তারা। হত্যাকাণ্ডকে চাপা দিতে ডাকাতির নাটকও সাজিয়েছিলেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার সকালে মোমেনবাগের ওই বাড়িতে খুনসহ ডাকাতির খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি, শয়নকক্ষের খাটের ওপর মহিবুল্লাহর মৃতদেহ পড়ে আছে। তার মাথায় আঘাত ছিল এবং বিছানায় রক্ত জমাটবাঁধা ছিল। বাসার কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্র এলোমেলো পড়ে ছিল। ঘটনাটি দেখার পর মহিবুল্লাহর ছেলে শামীম, মেয়ে প্রীতি এবং মহিবুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তারা বাড়িতে ডাকাতের হামলার কথা বলেন এবং ডাকাতরা তাদের বাবাকে হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানান।’

পরে পুলিশ তদন্তে নেমে দুই ভাইবোনের দেওয়া তথ্যে গরমিল পায় জানিয়ে ইব্রাহিম খান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায় যার সঙ্গে শামীম ও প্রীতির দেওয়া তথ্যের মিল ছিল না। এরপর প্রযুক্তির সাহায্যে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত শামীম ও প্রীতির সামনে তুলে ধরা হলে তারা বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়ে ঘটনার বিবরণ দেন।’

শামীম ও প্রীতিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহিবুল্লাহসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ কক্ষে শুয়ে পড়েন। পরে রাতের কোনো এক সময় মহিবুল্লাহ তার স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন। তখন পাশের কক্ষ থেকে এসে মেয়ে প্রীতি বাবার কাছে মাকে মারধরের কারণ জানতে চান। এ সময় প্রীতিকেও মারধর করেন মহিবুল্লাহ। এরই মধ্যে ছেলে শামীমও সেখানে যান। ছোটবেলা থেকেই শামীম তার মাকে বাবার হাতে মাঝেমধ্যেই মারধরের শিকার হতে দেখেছেন। এ কারণে বাবার প্রতি আগে থেকেই তার মনে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ ছিল। এই ক্ষোভ ও ঘৃণার জেরে শামীম বাবার গলা চেপে ধরেন। তখন প্রীতি পাশে থাকা কাচের একটি ভারী মগ দিয়ে মহিবুল্লাহর মাথায় আঘাত করলে তিনি বিছানায় ঢলে পড়েন। পরে দুই ভাইবোন রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। বাবার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিজেদের বাঁচাতে তারা ডাকাতির নাটক সাজান। এর অংশ হিসেবে আলমারি থেকে কাপড়-চোপড় বের করে কক্ষের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন। পরে তারা ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিবেশীদের ডেকে জানান, তাদের বাসায় ডাকাতি হয়েছে এবং ডাকাতরা তাদের বাবাকে খুন করেছে।

গ্রেপ্তার শামীম ও প্রীতিকে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খান আরও জানান, দুই সন্তানের জনক মুহিবুল্লাহ এক সময় সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে মোমেনবাগে জমি কিনে বাড়ি করেন তিনি। এছাড়া ঢাকার ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তবে সম্প্রতি ওই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত