সরকারি গাছ লুটের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৬ পিএম

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় রেললাইনের ধারে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছ লুটের খবর পাওয়া গেছে। লুটের অভিযোগ উঠেছে ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু, শিমুল, রেইনট্রি কড়ই প্রভৃতি। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক, ইউপি সদস্য আহসান মোর্শেদ রাজুসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বন বিভাগ। চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার রেলপথের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত ১৫ জুলাই। এ সুযোগে ২৬ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত রেললাইনের ধারের প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে নিয়ে যায় এ চক্রটি।

বন বিভাগের অভিযোগ, ভোগডাবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হকের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জন রাতে ৩৫টি গাছ কেটে লুট করে। পরে বিভিন্ন প্রজাতির আটটি গাছ বন বিভাগ উদ্ধার করে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চিলাহাটি বাজার থেকে ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পরিত্যক্ত রেলপথের দুই ধারে পড়ে আছে কেটে নেওয়া গাছের গোড়া।

বানিয়াপাড়া গ্রামের মজিদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ‘গাছ কাটার কথা শুনিছি হামেরা। কিন্তু আইতোত ভয়ে কাহো ঘর থাকির বাইরোত আইসে নাই। গাছ কাটা মানষিলার নাম সবাই জানে। কিন্তু ভয়ে কাহো নাম কোবে না।’

ওই সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী গোসাইগঞ্জ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. হামিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, ‘রাতে চেয়ারম্যানের লোকজন এলাকার একটি বাড়িতে পিকনিক খেয়ে গাছগুলো কেটে লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা জানতে পেরে বন বিভাগকে জানাই।’

এসব গাছের পরিচর্যাকারী একই গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৯) বলেন, ‘আমি ওই বনায়নের সুফলভোগী। অনেক কষ্ট করে গাছগুলো লাগিয়ে পরিচর্যা করেছিলাম। গাছ বিক্রি করে আমার ৬০ ভাগ অর্থ পাওয়ার কথা।’

বন বিভাগের ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ বিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ওই রেললাইনের ধারের ছোট-বড় ৩৫টি গাছ লুট হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি গাছ মূল্যবান। লুটের অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আটটি গাছের ৩৫টি খ- উদ্ধার করেছি। বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে। গাছগুলো উদ্ধার হওয়ার পর ২৭ জুলাই রাতে ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বিট কার্যালয়ে এসে আমাকে হুমকি দেন। আমরা তদন্ত করে ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আহসান মোর্শেদ রাজুর সম্পৃক্ততা পাই। তাদের নেতৃত্বে ওই লুটের ঘটনাটি ঘটে। চুরি হওয়া গাছের মূল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে ইউপি সদস্য রাজু, ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন রাজাসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে ভোগডাবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি সেদিন গাছ কাটার কথা শুনে রাত ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। গাছ কাটা বা লুটের সঙ্গে আমি জড়িত নই। হেয় করতে প্রতিপক্ষ আমাকে জড়িয়ে এসব কথা ছড়াচ্ছে।’

অন্যদিকে জাকির হোসেন রাজা ও ও ইউপি সদস্য রাজু এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত