ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী। পরে কলেজ চত্বর থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে ছোট ছোট পতাকা নিয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা অংশ নেন। র্যালিটি স্থানীয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রাত ১২টা ১ মিনিটে সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের মফিজার রহমান কলেজ মাঠে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নতুন নাগরিকরা। পরে ছিটমহলের বঞ্চিত ৬৮ বছরের জন্য ৬৮টি মোমবাতি ও ছিটমহল বিনিময়ের চার বছর উপলক্ষে চারটি মশাল প্র্রজ¦লন করে তারা। পরে সবার কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এবার ছিটমহলবাসীর দাবি এই দিনটিকে যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে ছিটমহল বিনিময় দিবস কিংবা ছিটমহল স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট মধ্যরাতে বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে বিনিময় হয় ১৬২টি ছিটমহলের। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখ- এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের ভূখ- হয়ে যায়। এতে দুই দেশেরই মানচিত্র পায় পূর্ণতা আর ছিটমহলবাসী পায় দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি।
এদিকে, লালমনিরহাটেও বিলুপ্ত ছিটমহলের চতুর্থ বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে মোমবাতি প্রজ¦ালন আর ১ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ছিটমহলবাসী স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই দিনটির ৪ বছর পূর্তি পালন করছে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী। ছিটমহল মুক্ত দিবসটি পালন উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা সদরের বিলুপ্ত ভিতরকুঠি ছিটমহলের ছালেহা সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কাটা ও ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বালন করেন অতিথিরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন বিলুপ্ত ছিটমহলে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
