বিএনপির জেলা কমিটি গঠনে ত্রিশঙ্কু অবস্থা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪৯ এএম

  মেয়াদ দুই বছর, কোনো কোনোটির পার হয়ে গেছে পাঁচ বছর

বিএনপির সাংগঠনিক জেলা কমিটি পুনর্গঠনে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়ে তাদের কয়েকজন বলেন, দফায় দফায় বৈঠক করেও জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে পারছেন না তারা। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও কোনো কোনো কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। এরপরও

এসব জেলার নতুন কমিটি গঠন করতে পারছেন না তারা। এদিকে তড়িঘড়ি করে কোনো কোনো জেলার আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে জেলা নেতাদের দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে। তাই জেলা কমিটিগুলো গঠনে সময় লাগছে। সময় লাগলেও এবার শক্তিশালী কমিটি করা হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ৮ জানুয়ারি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক সব জেলার প্রতিটি ইউনিটে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর দেশের আট বিভাগে আট জ্যেষ্ঠ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনের জন্য। তারপর সাত মাস কেটে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কোনো খবর জানাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

এর আগে সারা দেশের জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলা কমিটির মেয়াদ দুই বছর। কিন্তু দেখা যায় জেলা কমিটিগুলোর কোন্দল মেটাতে মেটাতেই দুই বছর পার হয়ে যায়। এ কারণে জেলার অন্যান্য ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে পারেন না জেলা নেতারা। এর ফলে দেখা যায় বারবার জেলা কমিটি নিয়ে টানাহেঁচড়া হলেও জেলার অভ্যন্তরীণ ইউনিটগুলোর কমিটি ঠিকভাবে করা হয় না।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে। জেলা কমিটির সভাপতি ও আহ্বায়কদের নাম উল্লেখ করে এ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুজ¦র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গণমুখী কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দিয়ে পৃথক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

সেখানে কথা হয় কয়েকজন জেলা নেতার সঙ্গে। তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ১৫১ সদস্যের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ দুই বছর। গত এপ্রিল মাসে এই কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হয়। এই কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ গাজী শাহজাহান জুয়েল। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে তারা দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি পুনর্গঠনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে গতকাল কথা হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির মেয়াদ পার হয়ে গেছে। তারা নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।

তৃণমূলের ওই নেতারা আরও জানান, নেত্রকোনা জেলা বিএনপিতে দ্বন্দ্ব এখন চরমে। এ জেলার কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। চলছে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ। ইতিমধ্যে জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক ও নেতা রফিকুল ইসলাম হিলালীকে সদস্য সচিব করে প্রাথমিকভাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও জেলা নেতাদের চাপে তা ঘোষণা করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেত্রকোনা জেলা বিএনপির এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন তারা। বৈঠকে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছিল সেসব প্রস্তাবকে পাশ কাটিয়ে বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক ও রফিকুল ইসলাম হিলালীকে সদস্য সচিব করে একটি খসড়া আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি অনেকটা ‘রাতের ভোটের মতো রাতের কমিটি’। এ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন জেলা নেতারা। জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে জেলা নেতাদের একটি অংশ পর্যায়ক্রমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অপর একটি অংশ প্রিন্সের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন।

নেত্রকোনা জেলা কমিটি গঠনের শুরুতেই ‘সমস্যা’ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি দেশ রূপান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্স নিজেও। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা জেলা বিএনপি গতিশীল করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে যারা কমিটিতে আছেন তারা সেভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন না। কেন্দ্র থেকে তাগাদা দিলেও কাজ হয় না। এজন্য অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত