কারও জ্বর থাকলে পরীক্ষা করে ঈদে বাড়ি যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিধন অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
একটা মহল ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “যাতে ঈদের সময় মানুষ বাড়ি-ঘরে না যায়, এজন্য তারা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষ কেন বাড়ি-ঘরে যাবে না! সবার ইচ্ছা আছে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করার।”
তিনি বলেন, “সবাই যাবেন তবে সতর্ক থাকবেন। এটাই হলো আমাদের অনুরোধ, সতর্ক থাকবেন। কারও জ্বর হলে রক্ত পরীক্ষা করে বাড়ি যাবেন, তা না হলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকতে পারে।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, শোকের মাস আগস্টে আমরা ডেঙ্গু আর এডিস মশা নিয়ে ব্যস্ত আছি। কিন্তু এই এডিস মশাদের চেয়েও বিপজ্জনক হচ্ছে অন্ধকারের এক অপশক্তি, কালো শক্তি। আগস্ট মাস এলেই এই অপশক্তির অশুভ তৎপরতা শুরু হয়। এই অশুভ শক্তি এডিস মশার চেয়েও ভয়ঙ্কর।
তিনি বলেন, আগস্ট মাস আসলেই একটি রাজনৈতিক অপশক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ওই সকল অপশক্তিকে প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে। সম্মিলিতভাবে অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন না ভয়ংকর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে না আসবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এডিস মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা যা বলবেন, একত্রে বসে সমন্বিতভাবে ঠিক করে নেবেন। একেক জন একেক রকম বলবেন না, যাতে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।”
ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, কার্যকর ওষুধের জন্য দুই সিটি করপোরেশন চেষ্টা করছে। আমরা আশা করছি, অনতিবিলম্বে এত বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে এখন এডিস মশার যে বিস্তার ঘটেছে তা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক যা যা করণীয় আপনাদের করতে হবে।
এসময় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
