আরবের প্রিন্সেসরা কেন পালাচ্ছেন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৫ এএম

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজকুমারী হায়া, শেইখা লতিফা ও সৌদি আরবের রাহাফ আল কুনান। চলতি সপ্তাহে দুবাইয়ের শাসকের বিচ্ছিন্ন স্ত্রী হায়া যিনি জর্ডানের রাজার সৎবোন, লন্ডনের একটি আদালতে সুরক্ষা চেয়ে মামলা করেছেন। তার সঙ্গে পালিয়ে আসা দুই কন্যার অভিভাবকত্ব চেয়ে করা ওই মামলায় তিনি জানিয়েছেন, তার এক মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে করানো থেকে বাঁচাতেই তিনি দুবাই থেকে পালান।

আরব অঞ্চলের ম্যানশন ও প্রাসাদের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পালানো নারীদের মধ্যে রাজকুমারী হায়া অন্যতম। ব্রিটিশ-মিসরের সাংবাদিক ওলা সালেম সম্প্রতি লেখেন, ‘দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম মিডিয়ার পরিচিত মুখ। রাজকুমারী হায়াকে তার স্বামীর পাশেই দেখা যেত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। পারস্য সাগরের দেশগুলোর শাসকদের ক্ষেত্রে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না।’ যদিও নারী নিপীড়ক হিসেবে দুবাইয়ের শাসকের বদনাম আছে মিডিয়ায়।

শুধু রাজকুমারী হায়াই যে মিডিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়েছেন তা নয়। আরব বিশ্বের রাজপরিবারের আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছেন, যাদের মধ্যে দুবাইয়ের শাসকের মেয়ে শেইখা লতিফাও একজন। যত দূর জানা যায়, পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গোপনে গ্রেপ্তার করে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। আরব বিশ্বের অধিকাংশ নারীই সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন। ঐতিহ্য ধারণকারী পরিবারগুলো নারীদের অনেক বিধিনিষেধের মধ্যে বন্দী করে রাখে। ঘরের বাইরে কতটুকু স্বাধীনতা তারা ভোগ করতে পারবে তা-ও নির্ধারণ করে দেয় পরিবারগুলো।

আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও রাজপরিবারগুলো এ নিয়ে অতটা চিন্তিত নয়। গত মাসে সাংবাদিক লরা কাসিনভ ওয়াফা ও মাহা আল সুবাই নামে দুই সৌদি নারীর পলায়নের ঘটনা উপস্থাপন করেন বিশ্ববাসীর সামনে। তিনি লেখেন, ‘তারা কোনোভাবে পাসপোর্ট জোগাড় করতে পারেন তাদের পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে। রিয়াদ থেকে তারা ইস্তাম্বুলে যান। এপ্রিলের ১ তারিখ রিয়াদের বিমানবন্দরে তারা তাদের মোবাইলের সিমকার্ড নষ্ট করে ফেলেন। তারা যেকোনোভাবেই জর্জিয়ায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। কারণ জর্জিয়ায় যেতে কোনো ভিসার দরকার হয় না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত