ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নাগরিকদের লম্বা প্যান্ট, পায়জামা ও মোজা পরে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল রবিবার দুপুরে নগর ভবনে ডিএসসিসি আয়োজিত কোরবানির বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে মসজিদের খতিব ও ইমামদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং অ্যারোসল স্প্রে বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এমন পরামর্শ দেন।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় নগর কর্র্তৃপক্ষ তার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে আছে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রতিদিন ৬০টি বাড়িতে ডিএসসিসির টিম যাবে।’
তবে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নাগরিকদের নিজ দায়িত্বে লম্বা প্যান্ট, পায়জামা, মোজা পরে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘ছোট ছোট সচেতনতার মধ্য দিয়ে রাজধানীকে ডেঙ্গুমুক্ত করা সম্ভব। আপনারা যারা লম্বা প্যান্ট, পায়জামা পরেন তারা পায়জামার সঙ্গে মোজা পরলে কিন্তু নিরাপদ থাকতে পারেন। বাসায় যারা থাকবেন, তাদের লম্বা জামা পরতে বলবেন। এই ছোট ছোট সচেতনতা আমাদের উপকার করবে এবং ডেঙ্গু মুসিবত থেকে রক্ষা করবে।’
মেয়র খোকন বলেন, ‘আপনারা সচেতনতার পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, ইনশাল্লাহ এই শহরকে আমরা ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে মুক্ত করতে পারব। আল্লাহ ধৈর্যশীলকে পছন্দ করেন। আপনারা ধৈর্য ধরেন, ইনশাল্লাহ এই বালা-মুসিবত, এই গজব থেকে আল্লাহ আমাদের মুক্ত করবেন।’
এদিকে দ্রুত মশা নিধনসহ নাগরিকদের উন্নত সেবা দিতে মোটরসাইকেলে মশক নিধন যন্ত্র স্থাপনসহ বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল রাজধানীর উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের সানবীম স্কুলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আয়োজিত পরিচ্ছন্ন অভিযান উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়েই নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু নির্মূল করতে হলে অবশ্যই তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি কোথাও জমতে দেওয়া যাবে না। ডিএনসিসির জনবল বাড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। যথাস্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস করতে হবে। নিজ নিজ আবাসস্থল, এলাকা, এলাকার জলাধার নিজেদের পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, যেখানেই অপরিচ্ছন্নতা, নাগরিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এডিস মশার বংশবিস্তার সহায়ক পরিবেশ পাওয়া যাবে সেখানেই জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আধুনিক ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডিএনসিসি সচেষ্ট রয়েছে। নাগরিকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা দিতে ডিএনসিসি বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করছে।
