ডিএনসিসির মশার ওষুধ কেনার চার বছরের নথি সংগ্রহ দুদকের

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৭ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশা মারার জন্য ওষুধ কেনার চার বছরের নথি সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কমিশনের একটি দল ডিএনসিসি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে নথিগুলো সংগ্রহ করে। এর আগে গত ২৪ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশার ওষুধ কেনার নথিপত্র সংগ্রহ করে দুদক। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিন্ডিকেট করে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অকার্যকর ওষুধ আমদানি ও সরবরাহ করছেÑ এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম রবিবার ডিএনসিসিতে অভিযান চালায়। এ সময় দেখা যায়, বিগত বছরগুলোতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) কেবলমাত্র কিউলেক্স মশা নিধনের পরীক্ষা করেছে। ওই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ওষুধ আমদানি করা হয়েছে ডিএনসিসির। দুদকের দল ২০১৯-২০ অর্থবছরে মশা মারার ওষুধ কেনার জন্য এডিস মশার ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

মশার ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া অনুসন্ধানে দেখা যায়, চার বছর ধরে দ্য লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই এককভাবে কীটনাশক সরবরাহ করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নিকোন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুদক টিম ২০১৫-১৯ সালের কার্যাদেশ প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করেছে এবং এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করবে। দুদক টিম পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই ডিএসসিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে মশা মারার ওষুধের কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। একই দিন ওষুধের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক টিম। এতে দেখা যায়, ১৮ বছর ধরে ডিএসসিতে মশা মারার ওষুধ সরবরাহ করছে দ্য লিমিট অ্যাগ্রো লিমিটেড। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি) এক বছর আগে দুই সিটি করপোরেশনের কেনা মশার ওষুধ ‘কার্যকর নয়’ মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছিল। এরপরও তা কেনা অব্যাহত রাখে দুই সিটি করপোরেশন। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হওয়ার আশঙ্কা করছে কমিশন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত