নরসিংদীতে এক কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ দুই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিবপুরের বাঘাব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরুণ মৃধা ১৩ বছরের ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনাটি দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা করতে এক সপ্তাহ ধরে মেয়েটির লপ উদ্দিনের হস্তক্ষেপে মেয়েটির বাবা পাঁচজনকে আসামি করে শিবপুর মডেল থানায় মামলা করতে সক্ষম হন।
মামলার আসামিরা হলো বাঘাব ইউনিয়নের জয়মঙ্গল গ্রামের মো. সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৫) ও মো. আক্তারুজ্জামানের ছেলে মো. কাজল মিয়া (৫৫), বিরাজনগর গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে হযরত আলী (৪৫), রাজু মিয়ার ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৩৫) ও আবুল হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (৩৫)।
এজাহারে বলা হয়, গত ২৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে ঘটনার শিকার ওই কিশোরী টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। তখন মামলার আসামি জাকির, হযরত ও কাজল মুখ চেপে ধরে তাকে অটোরিকশায় তুলে গ্রামের কাজল মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পাঁচজন মিলে ধর্ষণের পর রাত ৩টায় কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় জাকিরের বাড়ির রান্নাঘরে ফেলে রেখে যায়।
কিশোরীর বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঘটনাটি গোপন রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জানাজানি হয়ে যাওয়ায় দুদিন পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে ঘটনা খুলে বলি। ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ মৃধা আমাকে বলেন, খুব দেরি হয়ে গেছে, এখন তো আর থানায় মামলাও নেবে না। আমিই বিষয়টি মীমাংসা করে দেব। পরে ৩১ জুলাই চেয়ারম্যান জানান, তিনি আর মীমাংসা করতে পারবেন না।’
এদিকে র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন ঘটনাটি জানার পর গত শুক্রবার কিশোরী ও তার বাবাকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। পরে তিনি মামলা করতে তাদের শিবপুর থানায় পাঠান। ওই রাতেই মামলাটি নেয় পুলিশ।
ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা চেষ্টার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ মৃধার দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা জেনেছি গত সোমবার এলাকায় পুলিশ আসার পর। এ ঘটনায় আপস-মীমাংসার কোনো চেষ্টা আমরা করিনি।’
অন্যদিকে শিবপুর মডেল থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, ‘আসামিদের সবাই পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমন চেষ্টা করে থাকেন তারাও অপরাধ করেছেন।’
