চট্টগ্রামের পশুর হাট

ক্রেতার আনাগোনা থাকলেও জমে ওঠেনি বেচাকেনা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৪১ এএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থায়ী পশুর হাট বিবিরহাটে একসঙ্গে ২৫টি গরু নিয়ে এসেছেন কুষ্টিয়ার দুই বেপারি আকবর মৃধা ও মো. খলিল। তারা একেকটি গরুর দাম হাঁকছেন দেড় লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু গত তিন দিনে একটি গরুও বিক্রি হয়নি তাদের। তবু তারা আশাবাদী, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বেচাকেনা জমে উঠবে। শুধু এ দুজনই নন, তাদের মতো রাজশাহীর হাকিম বেপারি ও বগুড়ার এনামুল হকসহ গরু নিয়ে বাজারে আসা অধিকাংশ বিক্রেতাই গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরের কাছে একই অনুভূতির কথা জানান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরীতে দুটি স্থায়ী বাজারসহ এবার মোট আটটি পশুর হাট বসেছে। এগুলো হলো সাগরিকা গরুর বাজার, বিবিরহাট, কর্ণফুলী বাজার, স্টিল মিল গরু বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কমল মহাজন হাট, পোস্তার পাড় ও নুরনগর হাউজিং সোসাইটি মাঠ।

নগরীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সাগরিকা বাজার ও বিবিরহাটে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর গরু নিয়ে এসেছেন বেপারিরা। এছাড়া স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা গরু তুলেছেন বাজারে। অন্য বাজারগুলোতেও প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে ঢুকছে গরু। কিন্তু বাজারগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও বেচাকেনা এখনো জমে ওঠেনি। হাটের ক্রেতা, বিক্রেতা ও ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের বেশ কয়েক দিন আগে কোরবানির জন্য গরু কিনলে তা পরিচর্যার বিষয়টি অনেকেই ঝামেলা মনে করেন। তাছাড়া শুরুর দিকে বিক্রেতারা অতিরিক্ত লাভের আশায় বেশি দাম হাঁকেন। সময় হাতে থাকার কারণে এখন বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ক্রেতারা। তাই বেশিরভাগ মানুষ ঈদের দুই-তিন দিন আগে গরু কেনার জন্য একসঙ্গে বাজারে ভিড় করেন। আর তখনই জমজমাট হয়ে ওঠে বেচাকেনা।

নগরীর বৃহত্তম স্থায়ী পশুর হাট বিবিরহাট গরুবাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারিদের নিয়ে আসা গরু বাঁধার জন্য বিশাল এলাকাজুড়ে সারি সারি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য টানানো হয়েছে ত্রিপল। বাজারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকেই দেখা যায় সারি সারি করে বেঁধে রাখা হয়েছে বিভিন্ন বেপারির মালিকানাধীন গরু। বাজারের পূর্ব পাশে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের সঙ্গে রাখা হয়েছে ট্রাক থেকে গরু নামানোর ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন দূর-দূরান্তের জেলা থেকে বেপারিরা ট্রাকে করে গরু এনে নামাচ্ছেন সেখানে। মঙ্গলবার বাজারের সাপ্তাহিক নির্ধারিত দিনে মূল বাজারের বাইরে সুন্নিয়া মাদ্রাসা লাগোয়া মাঠ ও পাশের রেল লাইনেও রাখা হয়েছে অনেক গরু।

কথা হয় হাটের ইজারাদার মো. আরিফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত সারা বছরই সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার বিবিরহাটে গরু বেচাকেনা চলে। আর কোরবানি উপলক্ষে এ হাটের ব্যাপ্তি ও বেচাকেনা দুই-ই বাড়ে। বাজারে বেপারিরা যাতে নির্বিঘেœ তাদের গরু বেচাকেনা করতে পারে সেজন্য ইজারাদার ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

আরিফুর বলেন, ‘কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, রাজশাহী ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গরু বাজারে এসেছে। এছাড়া আসার পথে রয়েছে গরুবাহী আরও কিছু ট্রাক। তবে ভারত ও মিয়ানমারের গরুর পরিমাণ এবার কম।’ বাজারে বেচাকেনা খুব একটা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আর দুয়েক দিন পরই বাজার জমে উঠবে।’

প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে বিবিরহাটে গরু নিয়ে আসেন টাঙ্গাইলের বেপারি আমির আলী, এবার নিয়ে এসেছেন ২২টি। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘১লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু আছে আমার। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত মাত্র একটি গরু বিক্রি হয়েছে। কোরবানির সময় আরেকটু ঘনিয়ে আসলে বেচাকেনা বাড়বে।’

ভারত ও মিয়ানমারের গরু কম আসায় এবার গরুর ভালো দাম পাবেন বলেও আশা করছেন এই গরু ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে ক্রেতাদের দাবি, এখন অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন গরু ব্যবসায়ীরা। বিবিরহাটে গরু দেখতে আসা বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামীম হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘যে গরু দেড় লাখ টাকা দামে বিক্রি হওয়ার কথা সেই গরুর দাম চাইছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ঈদুল ফিতরের সময় পণ্যের বাজার যেভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়, একইভাবে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরুর বাজারও মনিটরিং করা প্রয়োজন।’

নগরীর অস্থায়ী পশুর হাট নুরনগর হাউজিং সোসাইটি মাঠেও বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। সেখানে ইতিমধ্যে প্রায় আট থেকে নয় হাজারের মতো গরু এসেছে বলে জানালেন ইজারাদার সাইফুল আলম। তিনি বলেন, ‘এ বাজারে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বেপারিরা যেমন গরু নিয়ে আসেন, তেমনি চট্টগ্রাম ও আশপাশ জেলা থেকেও প্রচুর গরু আসে। গত বছর এই বাজারে ১৮ থেকে ২০ হাজার গরু এসেছিল।’

ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে থেকে বাজারে ক্রেতাদের পদচারণা বাড়ে উল্লেখ করে ইজারাদার সাইফুল আরও বলেন, ‘ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত এখানে বেচাকেনা অব্যাহত থাকে।’

এদিকে নগরীতে সিটি করপোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটের বাইরেও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বেশকিছু গরুর হাট। বিভিন্ন ভবনের নিচে ও গলিতে রেখে এসব গরু বিক্রি করা হচ্ছে। একেক জায়গায় বিভিন্ন আকারের ৩০ থেকে ৪০টি গরু জড়ো করে বেচাকেনা করছে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট সিন্ডিকেট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত