ঝাড়ফুঁকের অসিলায় শিশুকে ধর্ষণ মসজিদের ইমামের

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ০৪:০৯ এএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদে ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দেওয়ার কথা বলে এক অসুস্থ শিশুকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ইমামের বিরুদ্ধে। তার নাম ফজলুর রহমান। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার ও মসজিদ

পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ আরও পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১১ অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

ধর্ষণের শিকার শিশুটি ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা একটি গার্মেন্ট কারখানার নৈশপ্রহরী ও মা গার্মেন্টকর্মী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, গত শুক্রবার সকালে ফতুল্লার চাঁদমারি এলাকায় বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমাম ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত কক্ষে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ফজলুর রহমানসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। আটককৃত অপর পাঁচজন হলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শরীফ হোসেন, ইমামের সহযোগী রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহি এবং মোতাহার হোসেন।

র‌্যাব আরও জানায়, শিশুটি বেশ কিছুদিন রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেত। এতে শিশুটি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজনের পরামর্শ মতে, ঝাড়ফুঁক ও পড়া পানি আনার জন্য শুক্রবার সকালে শিশুটির বাবা চাঁদমারি এলাকায় বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমানের কাছে শিশুটিকে নিয়ে যান। ইমাম ফজলুর রহমান এ সময় কৌশলে শিশুটির বাবাকে দোকানে পাঠিয়ে মসজিদের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর নিজের রুমে শিশুটিকে নিয়ে হাত বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুর বাবা এসে তাকে বাসায় নিয়ে গেলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবা-মাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে তারা বিকেলে ওই মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের ঘটনাটি জানান। এ সময় ইমামের পক্ষের লোকজন তাদের হুমকি দেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ শহরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে গিয়েও ইমামের লোকজন শিশুটিসহ তার বাবা-মাকে অপহরণের চেষ্টা করে। হাসপাতালের নার্সদের সহায়তায় শিশুটির বাবা বোরকা পরে র‌্যাব কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেন। পরে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ধর্ষক ইমামসহ ছয়জনকে আটক করে।

র‌্যাব জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টানা ছয় দিন যাবত তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। র‌্যাবের নিরাপত্তা পাহারার মধ্য দিয়ে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

চাঁদপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণ : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান (৪২) নামের এক গৃহশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরে ঢাকার মাতুয়াইল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াত মিজানুর রহমান। গত ২৪ জুলাই বিকেলে ওই ছাত্রীটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করেন মিজানুর। পরে ঢাকার মাতুয়াইলে একটি বাসায় ছাত্রীটিকে রেখে নিয়মিত ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার পর ছাত্রীকে উদ্ধার ও গৃহশিক্ষককে আটক করা হয়। ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব জানান, ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুরে পাঠানো হযেছে। গৃহশিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত