ছোটবেলায় অপরাহ উইনফ্রে আলুর বস্তা দিয়ে জামা বানিয়ে পরতেন। তার দরিদ্র পরিবারে সব সময় পোশাক কেনার জন্য বাজেট নির্ধারণ করা থাকত না। ফোর্বস-এর হিসাবমতে, উইনফ্রে এখন ৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক। আমেরিকার ৪০০ ধনী ব্যক্তির মাঝে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিলিয়নিয়ার। অপরাহর বিলিয়নিয়ার হওয়ার গল্প লিখেছেন আফরাতুন নাবিলা
বিষন্ন ছোটবেলা
জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং টিভি শো উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে উইনফ্রে ছেলেবেলায় পার করেছেন বেশ কঠিন কিছু সময়। শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের রাজ্য মিসিসিপির নিভৃত পল্লীতে নানির ফার্মে থাকতেন অপরাহ। এখানেই অবিবাহিত মায়ের ঘরে জন্ম হয় তার। সংসার চালাতে ওই এলাকাতেই অপরাহ’র অল্প বয়সী মা কাজ খুঁজতেন।
তার নানি অসুস্থ হয়ে পড়লে ৬ বছর বয়সী উইনফ্রেকে তার মায়ের সঙ্গে মিলউকি বোর্ডিং হাউজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে তিনি যে শুধু চরম দারিদ্র্যের মাঝেই বড় হচ্ছিলেন তাই নয়, বহু বছর ধরে তিনি শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনেরও শিকার হন।
‘দ্য হিলিং পাওয়ার অব সেলফ লাভ’ বইতে বামওয়েবেজ বামুহিগির লিখেছেন, অপরাহ মাত্র নয় বছর বয়সে তার ১৯ বছর বয়সী এক ভাই দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।
১৪ বছর বয়সে, উইনফ্রে এখান থেকে মুক্তি পেয়ে চলে যান টেনেসি’র নাশভিলেতে তার বাবার কাছে। মূলত সেখান থেকেই তার ক্যারিয়ারের শুরু হয়।
তার পিতা তাকে নিয়মকানুন, নির্দেশনা আর বোধের ব্যাপারে অনেক কিছু শেখাল যার কোনো কিছুর সম্পর্কেই অপরাহ’র আগে থেকে ধারণা ছিল না।
একটি স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ অপরাহ’র জন্য তৈরি করলেন তার বাবা। অপরাহ পড়াশোনা শুরু করলেন ইস্ট নাশভিল হাই স্কুলে। সেখানে তিনি দারুণ রেজাল্ট করতে লাগলেন আর ক্লাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেয়ে হিসেবে নির্বাচিত হলেন।
এই স্কুলেই অপরাহ মিডিয়ার প্রতি তার প্যাশনটা বুঝতে পারেন। স্কুলে তিনি যোগ দেন স্পিচ টিমে আর স্কুল শেষে কাজ করতে থাকেন স্থানীয় ব্ল্যাক রেডিও স্টেশনে।
উপস্থাপিকা হয়ে ওঠা
টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্কলারশিপ পেয়ে গিয়েছিলেন অপরাহ। কলেজ তিনি আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি মিডিয়ায় তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এ সময় তিনি অনেক বড় একটা ঝুঁকি নেন।
বাল্টিমোরে সহ-উপস্থাপিকা পদ পাওয়ার পূর্বে নাশভিলেতে ২০ বছর বয়সের আগেই তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে স্থানীয় খবর উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। বাল্টিমোরে কর্মরত অবস্থায় তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তবু তিনি কাজ থেকে সরে আসেননি। কাজ শুরুর সাড়ে সাত মাস পর তাকে সেখান থেকে বরখাস্ত করা হয়।
উইনফ্রে নাশভিলেতে আর বেশিদিন থাকলেন না। শিকাগোতে চলে এসে শুরু করলেন মর্নিং টক শো ‘এএম শিকাগো’।
কয়েক মাস পর, শিকাগোতে নিচে থাকা এই শো’টির রেটিং উঠে আসে সর্বোচ্চতে। তিন বছর পর এই অনুষ্ঠান ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’ নামেই পরিচিতি পায়।
‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’
১৯৮৬ সালে তিনি এই শো’টি জাতীয় পর্যায়ে শুরু করেন। পরবর্তী ২৫ বছর ২০১১ সাল পর্যন্ত এটি টানা চলে। ১২০টি চ্যানেল আর ১০ মিলিয়ন দর্শকের গ্রহণযোগ্যতায় প্রথম বছর শেষেই অনুষ্ঠানটি আয় করে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। আর উইনফ্রে অর্জন করেন ৩০ মিলিয়ন ডলার।
এবিসি থেকে তিনি অনুষ্ঠানটির মালিকানা পেয়ে যান। পরবর্তী সময়ে এটিকে তিনি তার নিজস্ব প্রোডাকশন কোম্পানি ‘হার্পো প্রোডাকশন’ (ইংরেজিতে অপরাহ বানানের শেষের দিক থেকে শব্দটার শুরু) এর অধীনে নিয়ে আসেন এবং এখান থেকেই আরও প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। ১৯৯৪ সালে, টক শো খুব ভালো অবস্থানে ছিল না। বাজে কিছু টপিকের জন্য অনুষ্ঠান তার স্বচ্ছতা হারাচ্ছিল। সে সময় সেই টপিকগুলো থেকে সরে আসেন উইনফ্রে। অনুষ্ঠানের রেটিং কমলেও, দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। অর্জন করতে থাকেন জনপ্রিয়তাও।
১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘দ্য ওমেন অব ব্রুস্টার প্লেস’কেও হার্পো তাদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে। সেই সিরিজে উইনফ্রে নিজেও অভিনয় করেছিলেন।
২০০৪ সালে, অপরাহ ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’টি ২০১০-১১ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক রাখার জন্য নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হন। সেই সময় ১০০টিরও বেশি দেশ এবং মার্কিন ২১২টি স্টেশনে একই সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।
২০০৯ সালে, উইনফ্রে ঘোষণা দেন, ২০১১ সালে যখন এবিসি’র সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হয়ে যাবে তখন তিনি অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। তিনি তাই করেছিলেন।
অপরাহ’স বুক ক্লাব
নিজ শো-এর অংশ হিসেবে উইনফ্রে পাবলিশিং জগতে ‘অপরাহ’স বুক ক্লাব’ চালু করেন। এই ক্লাবে থাকা বই নিয়ে শো-তে আলোচনা করেন তিনি। যে বইটি তার অনুষ্ঠানের জন্য বাছাই করা হয় তার বিক্রি বেড়ে যায় বহুগুণ। অনেক বই হয় বেস্ট সেলার। ১৯৯৬ সালে শুরু করা এই বুক ক্লাবের ১৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালের ২৫ মে। সে সময় পর্যন্তপাঠকদের মাত্র ৭০টি বইয়ের খোঁজ দিয়েছিলেন অপরাহ। কারণ একটাই। পাঠককে ভালো বইয়ের তথ্য জানানো। কিন্তু এত কিছুর পরও সমালোচকদের মুখে পড়তে হয়েছিল অপরাহকে। ২০০৫ সালে জোনাথান ফ্র্যানজের ‘দ্য কারেকশন’ বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বইটি পড়ে পাঠক তেমন সন্তুষ্টি না পাওয়ায় অপরাহ’র বই বাছাই নিয়ে শুনতে হয়েছিল কঠিন কথাও। জনপ্রিয় এই উপস্থাপিকা সমালোচনা করেন অনেক বিখ্যাত লেখকের বই নিয়েও। ২০১২ সালের ১ জুন নতুন করে অপরাহ’স বুক ক্লাব ২.০ শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি।
বুক ক্লাবটি এখনো চালাচ্ছেন উইনফ্রে। ২০১৮ সালে, ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা’র স্মৃতিজড়িত বই ‘বিকামিং’-এর উদ্বোধনের সময় তার ইন্টারভিউ নেন উইনফ্রে।
সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ
টক শো’র ফাইনাল সিজনে উইনফ্রে তার পরিবার সম্পর্কে একটি গোপন তথ্য জানান দর্শকদের। তিনি জানান তার প্যাট্রিসিয়া নামে একজন সৎ বোন আছে।
১৯৬৩ সালে উইনফ্রের মা লি একটি মেয়ের জন্ম দেন। সে সময় নয় বছর বয়সী উইনফ্রে বাবার সঙ্গে থাকতেন। লি সেই মেয়েকে অন্য একটি পরিবারের কাছে দত্তক দিয়েছিলেন কারণ তিনি ভাবতেন আরেকটি বাচ্চাকে লালন করার মতো সামর্থ্য তার নেই। প্যাট্রিসিয়া ৭ বছর বয়স পর্যন্ত সেই দত্তক পরিবারের কাছে থাকতেন।
বড় হওয়ার পর প্যাট্রিসিয়া তার জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু লি চাননি যোগাযোগ করতে। অনেক চেষ্টার পর উইনফ্রের এক ভাতিজির সঙ্গে তিনি যোগাযোগে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ ম্যাচ করে জানা যায় তারা আত্মীয়।
প্যাট্রিসিয়ার সম্পর্কে সবাইকে জানানোর মাত্র কয়েকদিন আগেই তার ব্যাপারে জানতে পারেন উইনফ্রে। শো-তে উইনফ্রে বলেন, ‘আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ ছিল এটি!’
ওজন কমানো
নিজের ওজন কমানো নিয়ে উইনফ্রে জনসম্মুখেই বলেছেন। ১৯৮৮ সালে, তার টক শোতে তিনি জানান, শুধু লিকুইড ডায়েট আর ব্যায়াম করে তিনি ৬৭ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে আমি প্রায় চার মাস যাবৎ না খেয়েই থাকতামÑ এ সময় আমি তেমন কিছুই খাইনি।’
১৯৯২ সালের দিকে তিনি আবার ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। ১৯৯৫ সালে, তিনি প্রায় ৯০ পাউন্ড ওজন কমিয়ে ফেলেন (সে সময় তার ওজন ছিল প্রায় ১৫০ পাউন্ড)। সে বছরই, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মেরিন কর্পস ম্যারাথনে অংশ নেন তিনি।
সাফল্য পাওয়ার শুরুর সে মুহূর্তে, উইনফ্রে’র ব্যক্তিগত শেফ রোজি ড্যালে এবং ট্রেইনার বব গ্রিন মিলে একটি বই বের করেন। পরে সেটি বেস্ট খেলার বই হয়। যদিও সে সময় তার ওজন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছিল।
‘অক্সিজেন মিডিয়া’ এবং ‘ও ম্যাগাজিন’
১৯৯৯ সালে, উইনফ্রে অক্সিজেন মিডিয়া চালু করেন। এটার পাশাপাশি, মিডিয়া জগতে উইনফ্রে অন্যতম শক্তিশালী এবং ধনী মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হন।
২০০০ সালে, হার্স্ট কর্র্তৃক নিয়ে প্রকাশিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ও : দ্য অপরাহ ম্যাগাজিন’-এ প্রথমবারের মতো আবির্ভূত হন তিনি।
অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্ক
২০১১ সালে ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে’ শো শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উইনফ্রে নিজের নেটওয়ার্কে ফিরে আসেন। দ্য অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত ছিল ডিসকভারি কমিউনিকেশন।
শুরুর পর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এটি সবার সামনে আসে, যখন উইনফ্রে এবং ল্যান্স আর্মস্ট্রং মিলে একটি অনুষ্ঠান করেন। ল্যান্স আর্মস্ট্রং ছিলেন একজন আমেরিকান সাইক্লিস্ট এবং সাতবার ট্যুর দ্য ফ্রান্সের বিজয়ী যার কাছ থেকে ২০১২ সালে ডোপিং চার্জের অভিযোগে ট্যুর টাইটেলের খেতাবটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে উইনফ্রে তার শিকাগোর প্রতিষ্ঠান হার্পো স্টুডিওটি বন্ধ করে দেন। সে সময় তিনি পুরো সময় দেন লস অ্যাঞ্জেলেসের অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্কের হেডকোয়ার্টারে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সময় এসে গিয়েছিল ব্যবসাটি বন্ধ করে দেওয়ার আর নতুন কিছু করার। যদিও বিদায় জানাতে কষ্ট হচ্ছিল অনেক। কিন্তু আমি শুধু সামনের কথা ভাবছিলাম সেখানে অপেক্ষা করছিল আরও অনেক বেশি কিছু।’
গ্রিনলিফে গিয়ে উইনফ্রে ফিরে যান অভিনয়ে, যেটা ছিল তার টেলিভিশনে করা প্রথম অভিনয়। অপরাহ উইনফ্রে নেটওয়ার্কে ২০১৬ সালের জুনে এই পারিবারিক সিরিজটি প্রচারিত হয়।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে, ডিসকভারি ঘোষণা দেয় তারা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ২৪.৫ শতাংশ অংশ কিনে নিয়েছে। উইনফ্রে এই অংশটুকু অপরিবর্তিত রাখেন এবং চুক্তি অনুযায়ী বাকিটুকুর প্রধান নির্বাহী থাকেন।
অপরাহ উইনফ্রের সম্পত্তি, চ্যারিটি এবং অ্যাওয়ার্ড
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুসারে, টানা তিন বছর ধরে উইনফ্রে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ধনী এবং একমাত্র আফ্রো-আমেরিকান। লাইফ ম্যাগাজিন তাকে তার প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীর খেতাব দিয়েছে। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে ‘উইনফ্রে অ্যাকাডেমি অফ টেলিভিশন আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’র বব হোপ মানবিক পুরস্কারের প্রথম প্রাপক হিসেবে মনোনীত হন।
২০০৫ সালে, বিজনেস উইক উইনফ্রেকে মার্কিন ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ সমাজসেবী হিসেবে ঘোষণা করে। অপরাহ’স অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় মেয়েদের পড়াশোনা এবং হারিকেন ক্যাটরিনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণসহ দাতব্য কর্মসূচির জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।
উইনফ্রে বাচ্চাদের অধিকারের জন্য বরাবর একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। ১৯৯৪ সালে, শিশু নির্যাতনকারীদের দণ্ডের জন্য দেশব্যাপী একটি ডাটাবেস তৈরি করা হয়েছিল যা উইনফ্রে কংগ্রেসের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। আর এতে স্বাক্ষর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন।
তিনি প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফ্যামিলি ফর বেটার লাইভস ফাউন্ডেশনের। আর টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তার মাতৃ শিক্ষায়তনে দানও করতেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে, উইনফ্রে অর্জন করেন সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম। নিজ দেশের জন্য অবদান রাখায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে এই অ্যাওয়ার্ড দেন।
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উইনফ্রে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বারাক ওবামার জন্য প্রচারণায় অংশ নেন। লোয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং সাউথ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত র্যালিতে ওবামার জন্য অংশ নেন তিনি। সেটাই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির জন্য উইনফ্রের প্রথম প্রচারণা ছিল। সবচেয়ে বড় ইভেন্টটি ছিল ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনার ফুটবল স্টেডিয়ামে, যেখানে ২৯ হাজার সমর্থক অংশগ্রহণ করেছিল র্যালিতে।
সে সময় উপস্থিত জনতাকে উইনফ্রে বলেছিলেন, ‘ড. (মার্টিন লুথার) কিং স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আমরা শুধু স্বপ্নকেই স্বপ্ন দেখব না। যে মানুষটি জানে আমরা শুধু কারা নই, আমরা কে হতে পারিÑ তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে স্বপ্নটা পূরণ করতে হবে।’
২০১৮ সালের নভেম্বরে, জর্জিয়া গর্বেরেটরিয়াল-এর ক্যান্ডিডেট স্ট্যাসি আব্রামসের জন্য উইনফ্রে প্রচারণা চালিয়েছেন। তার জন্য দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন উইনফ্রে। অংশ নিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের টাউন হল মিটিংয়েও। তবে, শেষ পর্যন্ত আব্রামস সে নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক
উইনফ্রে আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক অনেক দিনের। ১৯৯৯ সালে, ল্যারি কিং-এর লাইভে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার জন্য লড়েন তবে সেখানে প্রচারণার জন্য তিনি উইনফ্রেকে চাইবেন।
গোল্ডেন গ্লোবস অ্যাওয়ার্ড
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, উইনফ্রে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী ছিলেন যিনি লাইফ টাইম এচিভমেন্ট হিসেবে গোল্ডেন গ্লোবস সিসিল বি ডেমিল অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
অপরাহ’র সঙ্গী
১৯৮০ সালের দিকে, পাবলিক রিলেশন এক্সিকিউটিভ স্টেডম্যান গ্রাহামের সঙ্গে উইনফ্রের সম্পর্ক ছিল। ১৯৯২ সালের দিকে তাদের বাগদান অনুষ্ঠিত হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেননি। তারা শিকাগোতে থাকতেন। উইনফ্রের মন্টেকিটো, ক্যালিফোর্নিয়া, রোলিং প্রেইরি, ইন্ডিয়ানা এবং কলোরাডোতে বাড়ি আছে।
