পরমাণু যুদ্ধের হুমকি ভারত পাকিস্তানের

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৭ এএম

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কাশ্মীর সংকট থেকে দিল্লি-ইসলামাবাদ পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। গতকাল রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এমন মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, কাশ্মীর থেকে দৃষ্টি সরাতে ভারত পাকিস্তানে হামলা করতে পারে। ভারতের যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে পাকিস্তান ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’।

তিনি আরও বলেন, ‘কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে দুই দেশ এখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি বলেন, ‘শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাশ্মীর নিয়ে বিশেষ একটি দল গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। কাশ্মীর ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশ্বের প্রত্যেকটি দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হবে যেন তারা বৈশ্বিকভাবে এই বিষয়টিকে তুলে ধরতে পারে।’

পাকিস্তানের এমন বক্তব্যের দুদিন আগেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পরমাণু ইস্যুতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথমে পরমাণু হামলা না করার নীতি রয়েছে ভারতের। তবে প্রয়োজনে এই নীতি থেকে সরে আসতে পারে ভারত।’ বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের অমন প্রচ্ছন্ন হুমকির প্রতিবাদেই রবিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে রবিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তবে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা হবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা নয়।’

রাজনাথ সিংয়ের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও কাশ্মীর নিয়ে নতুন বক্তব্য দেন। ইমরান খান এতে ভারতের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, হিন্দু আধিপত্যবাদী মোদি সরকারের কাছে থাকা পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবিতে চীনের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক অনানুষ্ঠানিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর এবারই প্রথম কাশ্মীর ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। ৯০ মিনিটের ওই বৈঠকে কাশ্মীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে বেশিরভাগ সদস্যই কাশ্মীর সংকটকে ভারত ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর নিয়ে সফল আলোচনা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। ইতিমধ্যেই কাশ্মীর সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে উভয়পক্ষের সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত