আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল ঘিরে সরগরম নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। গতকাল রবিবার সকাল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহকারে কার্যালয়ে আসেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিনে ১০০ টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছেন ১০৮ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৪২ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬৬ জন। গত শনিবার নিয়েছেন সভাপতি পদে ৫ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন। এ নিয়ে সভাপতি পদে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭, আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ৭২ জন।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই দুই পদের নেতা নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ হবে যাতে সারা দেশের ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন। মনোনয়নপত্র বিক্রির শেষ দিনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আসা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে নয়াপল্টনের কার্যালয় ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
ছাত্রদলের কাউন্সিল সামনে রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। এরপর ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ আগস্ট প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩১ আগস্ট। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রচারণা ৩ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত।
মনোনয়নপত্র বিতরণকালে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রদল। আগামীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করবে কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত ছাত্রদল।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ছাত্রদলের অতীত ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, জনগণের মৌলিক অধিকার নেই। আগামী দিনে দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা ও কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রদল ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহে অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছেন তারা। প্রথমে তাদের ধারণা ছিল সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ১১৯টি। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৪৭ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৭২ জন প্রার্থী হয়েছেন।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদল জন্মলগ্ন থেকেই কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করে আসছে। এরপর গণতন্ত্রের পথচলা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে কখনো কখনো নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাউন্সিল করা যায়নি। তবে এখন থেকে আগামী দিনে কাউন্সিলের মাধ্যমে সব পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে ছাত্রদলের প্রথম কাউন্সিলে এনামুল কবির শহীদ সভাপতি ও গোলাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় কাউন্সিলে গোলাম সারোয়ার মিলন সভাপতি ও আবুল কাশেম চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৩ সালে আবুল কাশেম চৌধুরী সভাপতি ও জালাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৬ সালে জালাল আহমেদ সভাপতি ও মাহবুবুল হক বাবলু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সবশেষ ১৯৯২ সালে পঞ্চম কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে রুহুল কবির রিজভী ও এম ইলিয়াস আলী যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর সব কমিটিই ছিল ‘পকেট কমিটি’।
সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন তিন ছাত্রদল নেত্রী : ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নারী নেত্রী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের নাদিয়া পাঠান পাবন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শামসুন্নাহার হলের সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মানসুরা আলম ও বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ডালিয়া রহমান।
বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিন দুপুরের দিকে মনোনয়নপত্র শেষ হয়ে যায়। পরে আবার মনোনয়নপত্র ছাপিয়ে বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সভাপতি পদের প্রার্থীরা হলেন মো. মামুন খান, আমিনুল হাকিম মুন্সি, খলিলুর রহমান, আসাদুল আলম টিপু, আবু জাহান চৌধুরী হিমেল, এম আর আরজ আলী শান্ত, আল আমিন কাউসার, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, রিয়াজ মো. তানভীর রেজা, মো. ফজলুল হক নীরব, মো. আব্বাস আলী, তানভীর আহমদ খান ইকরাম, জসিম মোল্লা, মো. এরশাদ খান, মো. এহসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. জুয়েল মৃধা, মাসুদ রানা, মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, হাফিজুর রহমান, এ বি এম মাহমুদুল আলম সরদার, সোলায়মান হোসাইন, মো. সুরুজ ম-ল, মো. ইলিয়াছ, মো. আজিম উদ্দিন মেরাজ, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, ফজলুর রহমান খোকন, মাইনুল ইসলাম, মো. আবদুল মাজেদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, আল মেহেদি তালুকদার, সাজিদ হাসান বাবু, সিহাবুর রহমান, এস এম আল আমীন, আবদুল হান্নান, মো. আলী হাওলাদার, এস এম আমিনুল ইসলাম, শামীম হোসেন, মো. আল আমিন, আরাফাত বিল্লাহ খান, নজরুল ইসলাম নাহিদ ও জসিম উদ্দিন।
সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা হলেন সাইদ মাহমুদ জুয়েল, মো. আলাউদ্দিন খান, এম এ কাইয়ুম, মশিউর রহমান রনি, এমদাদুল হক মজুমদার, মানসুরা আলম, মো. হামিদ সাজ্জাদ হোসেন, মো. নাঈম হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. তানজিল হাসান, শেখ আবু তাহের, মো. তাবিবুর রহমান, এম সাখাওয়াত হোসাইন, ডালিয়া রহমান, মিজানুর রহমান সজীব, আজমীর হোসেন, আমিনুর রহমান আমিন, শাহনেওয়াজ, মুন্সি আনিসুর রহমান, আবদুল মোমেন মিয়া, নাজমুল হক হাবিব, আনিসুর রহমান সুমন, এ বি এম জহিরউদ্দিন সোহেল, এন রাকীব জুয়েল, মিজানুর রহমান শরীফ, মো. ওমর ফারুক হিমেল, রিয়াদ মো. ইকবাল হোসেইন, একরামুল হাই নাঈম, ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, মো. আবদুল মান্নান, মো. জামিল হোসেন, ইকবাল হোসাইন শ্যামল, মো. আবুল হাসান চৌধুরী, এএএম ইয়াহিয়া, নুরুল ইমরান মজমুদার শিশু, মো. মহিন উদ্দিন রাজু, রাকীবুল ইসলাম রাকিব, আরিফুল হক, আজিজুল হক সোহেল, রাশেদ ইকবাল খান, মো. জোবাইর আল মাহমুদ রিজভী, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা, মাজেদুল ইসলাম রুম্মন, মাহমুদুল আলম শাহিন, মো. ইউসুফ কামাল জনি, বাবুল আখতার শান্ত, মো. মিজানুর রহমান, নাদিয়া পাঠান পাবন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, আশিকুর রহমান সুমন, মো. জহিরুল ইসলাম দিপু, মো. আল মামুন, মো. সাইদুর রহমান সোহেল, মাহতাব উদ্দিন জিমি, জুলহাস উদ্দিন, আতাউর রহমান, কে এম এস মুসাব্বির, কাজী মাজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবুল বাশার, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, আসাদুজ্জামান, সাদেকুর রহমান সাদিক, আশরাফুল আলম, দেলোয়ার হোসেন, সুলায়মান হোসাইন।
মনোনয়নপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সদ্য বিলুপ্ত কমিটির রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ।
সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি গঠন হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে নির্বাচিত করা হয়।
