চলন্তিকা বস্তিতে ফেরা অনিশ্চিত বাসিন্দাদের

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৪:০৬ এএম

রাজধানীর মিরপুরে আগুনে পুড়ে যাওয়া চলন্তিকা বস্তির বাসিন্দাদের সহসা সেখানে ফেরা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর জন্য বিকল্প চিন্তা করছে সরকার। সেক্ষেত্রে বস্তিবাসীর জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। এদিকে পোড়া বস্তির স্থানে নতুন করে ঘর তোলা হলে সেই ঘরের মালিক ভাড়াটিয়ারা হবে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আগুনে ভস্মীভূত হয় মিরপুরের চলন্তিকা বস্তি। আগুনে প্রায় ২০ হাজার ঘর ছাই হয়, গৃহহীন হয় বস্তিবাসী। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ঝিল দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘর তুলে বছরের পর বছর ভাড়া নিচ্ছিল। বস্তিতে অনেক মালিকের এক থেকে দেড়শ ঘর ছিল। আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। তবে সরকারি জমি দখল করে ঘর তুলে কোটি টাকা ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দিতে চান না স্থানীয় নেতারা। মিরপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা রজ্জব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বস্তির জায়গাটি সরকারের। কিন্তু কিছু লোক ঘর তুলে বছরের পর বছর কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে আছে যাদের আড়াইশর ওপর ঘর ছিল।’ তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের ভাই ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে এলে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি নতুন করে ঘর তুলে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের দেওয়ার জন্য। জায়গাটি যেহেতু গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের, তাই নিশ্চিত বলতে পারছি না নতুন করে ঘর তোলা হবে কি না। জেলা প্রশাসক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা তৈরির পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এই কাউন্সিলর আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ১০ হাজারের বেশি মানুষকে তিন বেলা খাবার দিচ্ছি। তবে যত দ্রুত সম্ভব তাদের স্থায়ী ব্যবস্থা করা দরকার।’

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বস্তির ওই স্থানে নতুন করে ঘর তোলার কোনো চাহিদাপত্র আমরা পাইনি। আর পেলেও বিবেচনা করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্থ বস্তিবাসীকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

এদিকে গতকালও বস্তি এলাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে ঘর পোড়া বাসিন্দাদের। বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতন স্কুলে এখনো ২ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থান করছে। বাকিরা আশপাশের বিভিন্ন ভবনের বেজমেন্টে রাত পার করেছ। সব মিলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। তাদের একজন এসকান্দার (৪০) বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এখানে বাস করি। নিজে চারটি ঘরে থাকি। অন্য ছয়টি ঘর ভাড়া দিয়ে সংসার চলে। এখন যদি ঘর না পাই তবে রাস্তায় বসতে হবে।’ আরেক ঘর মালিক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা বস্তিতে বাস করি তাদের কথা বিবেচনা করা উচিত। যদি সরকার আমাদের ঘর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে আমরা ঘর মালিকরা বসে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।’

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর থাকা, খাওয়া এবং চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বস্তিবাসীর স্থায়ী আবাসের বিষয়ে জানতে মেয়র আতিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর আবাসনের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কিছু করার এখতিয়ার নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত