সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর কাছে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। কমিটির প্রধান সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ সময় মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি উপস্থিত ছিলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। আর দেরি নয়, আমরা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চাই। এ-সংক্রান্ত একটি আইন কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্বল্পতম সময়ে আইনটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এ লক্ষ্যে ১১১টি আশুকরণীয়, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশমালা তৈরি করে। এর মধ্যে আশুকরণীয় ৫০টি, স্বল্পমেয়াদি ৩২টি ও দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি সুপারিশ রয়েছে।
সুপারিশে রয়েছে বর্তমানে দেশে মহাসড়কের পাশে ২৩০টি হাট-বাজার রয়েছে। যার মধ্যে ১৮৪টি সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া। হাট-বাজারে প্রচুর লোকসমাগম হয়। এসব স্থানে প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটে ও যানজট হয়। এই সমস্যার সমাধানে মহাসড়কের একেক পাশে ১০ মিটার করে মোট ২০ মিটার এলাকায় কোনো ধরনের বাজার ও দোকান রাখা যাবে না। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও বলা হয়, মহাসড়কে কোনো ধরনের গতিরোধক রাখা যাবে না। কোনো সড়কে গাড়ির গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি হলে সেখানে গতিরোধক দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। পোশাক কারখানা এলাকাসহ কোথাও পথচারীদের জন্য ঝুঁকি থাকলে দুই সেট রাম্বল স্ট্রিপ দিতে হবে। পর্যায়ক্রমে সব সড়কে ডিভাইডার ও কম গতির গাড়ির জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রা শুরুর আগে গাড়ি ও চালকের কাগজপত্র এবং নিরাপত্তা উপাদানগুলো ঠিক আছে কি না, যাচাই করতে হবে। দূরপাল্লার বাস ছাড়ার আগে চালক-সহকারীসহ যাত্রীদের ভিডিও ধারণ করতে হবে।
সুপারিশে বলা হয়েছে, সব গাড়ির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করতে হবে। ২০ বছরের পুরনো বাস ও ২৫ বছরের পুরনো ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। মডেল আউট ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে হবে। চালকদের নির্দিষ্ট মজুরি দিতে হবে। দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটি, রিকশা, লেগুনা নিষিদ্ধ করতে হবে। এলাকাভিত্তিক বা গ্রামীণ সড়কে চলার জন্য এগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাইড শেয়ারিং কোম্পানির জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং চালকের জন্য প্রশিক্ষণ ও নিজ নিজ লোগোসংবলিত পোশাক, ভেস্ট থাকতে হবে।
সুপারিশে শহরের ভেতর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল না রেখে বাইরে নিয়ে যাওয়া, মহাসড়কে ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা, টোল আদায় ও ওজন স্কেলে অনিময় দূর করা, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ৫ শতাংশ বরাদ্দ সড়ক নিরাপত্তার জন্য রাখাসহ আরও সুপারিশ করা হয়েছে।
