রাজধানীর মিরপুর থেকে মাদারীপুর নিয়ে অপহরণ করা প্রাইভেট কারের চালক এনায়েত উল্লাহকে (৩২) উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার ভোরে গাড়িসহ তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে তারা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো শাহজালাল (৩২), ফয়সাল (২২), জয়নাল হাজারী (৩০) ও রাকিব (২২)।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। তিনি
বলেন, গতকাল ভোরে মাদারীপুরের দুর্গম চর থেকে এনায়েত উল্লাহকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় চার অপহরণকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় নয়ন তারা (২৩), সজীব (২২), রেজাউল (২৮), রব মিয়া (২৪), কামরুল (২৫) এবং মেহেদী হাসান (২৩) জড়িত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর রূপনগরের শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে অপহরণকারী দলের দুই সদস্য যাত্রীবেশে এনায়েত উল্লাহর প্রাইভেট কারে ওঠে। তারা পদ্মা নদী পার হয়ে রাত ২টার দিকে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় পৌঁছলে ওত পেতে থাকা অপহরণকারী চক্রের আরও তিন সদস্য গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দিয়ে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তল্লাশির নামে এনায়েত উল্লাহকে গাড়িসহ অপহরণ করে। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন দত্তপাড়া চর এলাকায় কাশবনের পাশে একটি ছোট ঘরে নিয়ে তাকে আটকে রাখে তারা। পরে ব্যক্তিগত গাড়িটি অপহরণকারীরা চালিয়ে নিয়ে গিয়ে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানাধীন আটরশি জাকের মঞ্জিলের পার্কিংয়ে রাখে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, অপহরণকারীরা এনায়েত উল্লাহর হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তার পরিবারের কাছে প্রথমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে। পরে মুক্তিপণ কমিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এনায়েতের ভাই কেফায়েত উল্লাহ রূপনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং র্যাব-৪-এর অধিনায়কের কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে র্যাব-৪-এর একটি দল মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন এলাকা থেকে গতকাল ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে এনায়েত উল্লাহকে উদ্ধার করে।
