চাঁদা না পেয়ে মারধর: যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৭:১৭ পিএম

চাঁদাবাজির অভিযোগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভিয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৮) ও তার সহযোগী মো.শাকিল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।

শুক্রবার গভীর রাতে আসাদ ও তার সহযোগী শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুজনকে কোতয়ালি থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।

থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্যাবল নেটওর্য়াক ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুন নবী পলাশের বালুমহালের ইজারাকৃত ঘাট দেখাশোনা করতেন ম্যানেজার মনিরুজ্জামান। মাহমুদুন নবী পলাশ ও মনিরুজ্জামানের কাছে বালুমহাল থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার সহযোগীরা। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় এক পর্যায়ে মহাল থেকে নিজেরাই বালু উত্তোলন করে আসছিলেন এই যুবলীগ নেতা।

অভিযোগকারী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি মাহমুদুন নবী পলাশের বালুমহাল দেখাশোনা করি। গত পহেলা বৈশাখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টাকা সরকারকে প্রদানপূর্বক চিরিরবন্দরের ধুরইল বালুমহালটি এক বছরের জন্য ইজারা নেই আমরা। বালুমহাল ইজারা নেয়ার পর থেকে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার সহযোগীরা আমাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলে।  কয়েকদিন আগে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জমান আসাদসহ দশ-বারোজনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বালুর ঘাটে এসে পুনরায় এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

তিনি আরো জানান, আসাদুজ্জামান ও তার সহযোগীরা বালু উত্তোলন করে তারা নিজেদের মতো করে গাড়িতে বালু নিয়ে যেতে শুরু করেন। আমি বাধা দিলে তারা খুন, জখমের হুমকি দেন। তাছাড়া চাঁদার টাকা না দিলে আমাকে ব্যবসা করতে দেবে না বলেও হুমকি দেন যুবলীগ নেতা আসাদ।

এজাহারে তিনি আরো বলেন, ‘২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আমতলী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় পৌঁছালে যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান, শাকিল ইসলাম ও তাদের সহযোগীরা পথ আটকিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারাল ছোরা দিয়ে মাথায়  আঘাত করে। এ সময় আমাকে কিল-ঘুষি, লাথিসহ এলোপাতাড়ি মারতে থাকে তারা।

অভিযোগকারী জানান, এক পর্যায়ে তারা আমার প্যান্টের ডান পকেটে ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। আমাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন-উর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ প্রায় আসে। আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আলোচনা করছি।’

চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তারমধ্যে পথরোধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে রাতেই আদালতে চালান দেওয়া হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত