আমাজনের আগুন নেবাতে পানি ঢালছে ব্রাজিলের যুদ্ধবিমান। কয়েক সপ্তাহ ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই রেইন ফরেস্টে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। এ ঘটনায় বিশ্ববাসীর উদ্বেগের পর শেষমেশ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে ব্রাজিল সরকার
আমাজনের আগুনে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে রোরাইমা, একার, রনডোনিয়া এবং আমাজোনাস রাজ্যে, পাশাপাশি মাতো গ্রোসো ডো সুল এলাকাতেও।
রনডোনিয়াতে আগুন নেবাতে যুদ্ধবিমানে করে পানি ছিটানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
এর আগে আমাজনের ভয়াবহ দাবানল নেভাতে সেনাবাহিনী তলব করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো। রবিবারের মধ্যে সাতটি রাজ্যে আগুন নেবাতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হবে বলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান।
রয়টার্স জানায়, রনডোনিয়া রাজ্যের রাজধানী পোর্তো ভেলহোতে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী আগুন নেভাতে দেখা যায়। এই অঞ্চলে ফুটবলের মাঠের চেয়েও বড় এলাকা আগুনে পুড়ে গেলেও এখনো কিছু কিছু জায়গায় গাছের মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুইটি বড় যুদ্ধবিমানে করে হাজার হাজার লিটার পানি ঢালা হচ্ছে। ধোঁয়া উঠতে থাকা কাছাকাছি গিয়ে ওপর থেকে পানি ঢালে বিমান দুইটি।
প্রসঙ্গত, আমাজনের একের পর এক অংশ আগুনে গ্রাস নেওয়ার ঘটনায় সমালোচিত হয় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের ভূমিকা। আগুন লাগানোর জন্য এনজিওকে দায়ী করে তিনি বিতর্কিত হন। এমনকি আগুন নেভানোর সামর্থ্য নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
আগুনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ব্রাজিলের শহরে শহরে পরিবেশবাদী রাস্তায় নেমে আসে। বিশ্বের নানা দেশে ব্রাজিলের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড জানায়, আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে তারা দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলো সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তিতে অনুমোদন দেবে না। ফিনল্যান্ডে অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রাজিলের গরুর মাংস আমদানি নিষিদ্ধের ডাক দেন।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার টেলিভিশনে বোলসোনারো সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়ার ঘোষণাটি দেন। ততক্ষণে আমাজনের ধোঁয়া ছড়িয়ে গেছে আটলান্টিকের উপকূল পর্যন্ত। এমনকি ব্রাজিল ছাড়িয়ে আগুন ছেয়ে গেছে বলিভিয়ার আমাজন অংশেও। বলিভিয়া সরকার ব্রাজিলের আগেই মার্কিন বিমান ভাড়া করে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর উদ্যোগ নেয়।
