সুদানের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন শেষমেশ বিশাল সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। দেশটির সামরিক জান্তা সরকার দীর্ঘ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বেসামরিক সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে। দ্য ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেইঞ্জ (এফএফসি) সামরিক জেনারেলদের সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরে চুক্তি করেছে।
ফলে সাবেক শাসক ওমর আল বশিরের দীর্ঘ শাসনের পর সুদানে গণতান্ত্রিক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীরা ও সামরিকপক্ষ উভয়ই ৩৯ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে রাজি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কর্র্তৃপক্ষ একটি সার্বভৌম কাউন্সিল গঠন করবে, যার ১১ সদস্যের মধ্যে পাঁচজন বেসামরিক ও পাঁচজন সামরিক। বাকি একজন নির্বাচিত হবেন বেসামরিক প্রতিনিধিদের অনুমতি সাপেক্ষে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ হামদোক ভালো করেই জানেন তার সামনে জটিল পরিস্থিতি অপেক্ষা করে আছে। বিশেষ করে সুদানের উত্তপ্ত অবস্থা শান্ত করতে তাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যেতে পারে। তবে আশার কথা, তিনি কোনো রাজনীতিক নন। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ ও আমলা। গত এক দশক তিনি আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জাতিসংঘের ইকোনমিক কমিশনের হয়ে কাজ করেছেন।
গতকাল বুধবার হামদোক বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা আমার হাতে এসেছে, যা আমাকে এফএফসি হস্তান্তর করেছে। ১৪ জন মন্ত্রীর পদের জন্য ৪৯ জনের নাম এসেছে। আমরা সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ ও একই মানসিকতার দল চাই।’ এএফপির গতকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বাছাই করবেন হামদোক।
বর্তমানে সুদানে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেতনের ওপর নির্ভরশীল জনগণ প্রতিদিনের আহারের ব্যয় মেটাতেও পারছে না। ব্যবসায়ী ও কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে জ্বালানিও কিনতে পারছেন না। মুদ্রাস্ফীতি আর অর্থ ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা সুদানের জন্য। দেশটির নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তরণের পাশাপাশি দারফুরের বিদ্রোহ দমন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
