কৃষ্ণার পা বিচ্ছিন্ন করা বাসে আসল চালক ছিলেন না

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

রাজধানীর বাংলামোটরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে এক নারীর পা থেঁতলে দেওয়া যাত্রীবাহী ট্রাস্ট পরিবহনের বাসে প্রকৃত চালক ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, বেপরোয়া গতির বাসটির ব্রেক ফেল করে ফুটপাতে তুলে দেন চালক। মোরশেদ নামের এক খণ্ডকালীন চালক এটি চালাচ্ছিলেন। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত ওই নারীর স্বামী রাধে দেব চৌধুরী বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় ট্রাস্ট পরিবহনের ওই বাসটির মালিক, চালক ও চালকের সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে চালক ও হেলপারকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই খায়রুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসটির ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাসটির ড্রাইভার নিজে না চালিয়ে অন্য একজনকে চালাতে দিয়েছিল। তার নাম মোরশেদ। সে রেগুলার ড্রাইভার নয়। বাসের প্রকৃত চালক সম্পর্কে এখনো জানতে পারিনি।’ তিনি বলেন, বেপরোয়া গতিতে চলা বাসটি ব্রেক ফেল করে ফুটপাতে তুলে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন স্বামী রাধে দেব। কৃষ্ণা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাবরক্ষণ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক। এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে তার। পরিবার নিয়ে রাজধানীর টিকাটুলি এলাকায় থাকেন তিনি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে বাংলামোটর ওভারব্রিজের নিচে ফুটপাতে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণা রায়কে চাপা দেয় ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস। কৃষ্ণাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে পাঠানো হয় পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। মাথার সামনে ডান দিকে দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অন্য পায়েও আঘাত লেগেছে। শরীরের কয়েক স্থান ছিলে গেছে।

চিকিৎসকরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে একবার বমি হওয়ায় কৃষ্ণা রায়কে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।

গতকাল পঙ্গু হাসপাতলে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার নারী ওয়ার্ডের টি-৪৭ নম্বর বেডে শুয়ে আছেন কৃষ্ণা রায়, পায়ে ব্যান্ডেজ। তার পাশে থাকা ভাই সৌমিক মজুমদার বলেন, ‘মঙ্গলবারই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। প্রথমে ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। এখন ব্যথা কম অনুভব করছে। আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখানে ৮ থেকে ১০ দিন থাকতে হবে। নিয়মিত ড্রেসিং করাতে হবে। যদি চিকিৎসকরা অনুমতি দেন, তবে আমরা অন্য কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করব।’ 

এদিকে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস কর্র্তৃপক্ষের তরফ থেকে গতকাল দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার ও বিআইডব্লিউটিসি কর্র্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মিশা সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাস্ট পরিবহন মালিক সমিতির কয়েকজন প্রতিনিধি গতকাল বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তারা বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে কৃষ্ণার স্বামী রাধে দেবও ছিলেন। সে সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষ্ণার স্বামী রাধে দেব বলেন, ‘আমি টাকা চাই না। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’ তিনি বলেন, কৃষ্ণার বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল বুধবার সকালে ক্ষতস্থান ড্রেসিং করেছেন। নিয়মিত ড্রেসিং করতে হবে যাতে সংক্রমণ না হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত