‘কিং এরিক’ সব সময় অন্যরকম

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫০ এএম

এরিক ক্যান্টোনা। ফুটবলে বর্ণময় চরিত্র অনেক আছে। কিন্তু ক্যান্টোনার মতো বোধহয় একটাও নেই। গত বৃহস্পতিবার মোনাকোতে এসেছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড নিতে। মঞ্চে উঠলেন। পুরস্কার হাতে নিলেন। আর যা বললেন তা অন্য সবার থেকে আলাদা। মনে হলো যেন কাঁচা-পাকা শ্মশ্রুমন্ডিত এক গ্রিক দার্শনিক দাঁড়িয়ে কথা বলছেন উয়েফার মঞ্চে। শুরু করলেন শেক্সপিয়ারের কিং লেয়ার কোড করে। আর শেষে বললেন ‘আই লাভ ফুটবল’।

এরিক ক্যান্টোনা চিরকালই এমন। প্রথাবদ্ধ নন। প্রচলিত চিন্তার মধ্যে তাকে ধরা যায় না। ফুটবল মাঠেও তিনি অন্যরকম ছিলেন। অভিনয়ের মঞ্চেও তিনি অন্যরকম। বৃহস্পতিবার উয়েফার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের স্বকীয়তা প্রমাণ করতেই যেন ক্যান্টোনা বললেন, ‘এজ ফ্লাইস টু ওয়ানটন বয়েস আর উই টু গডস, দে কিল আস ফল দেয়ার স্পোর্টস।’

আশা প্রকাশ করে বললেন, কোষবিজ্ঞান মানুষের বয়স নিয়ন্ত্রণ করবে। তাই অচিরেই মানব অমরত্ব লাভ করবে। তবে যুদ্ধ আর দুর্ঘটনা যে সেই অমরত্ব কেড়ে নিতে পারে সেটাও জানাতে ভোলেননি ক্যান্টোনা। বলেছেন, ‘একমাত্র অপরাধ, যুদ্ধ আর দুর্ঘটনা আমাদের শেষ করতে পারে। অপরাধ আর যুদ্ধ অনেক রকম। যাই হোক আমি ফুটবল ভালোবাসি। ধন্যবাদ।’

তিনি আর কিছু বলেননি। মোনাকোর মুগ্ধ অডিয়েন্স এটুকুতেই খুশি। লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মুগ্ধ ছাত্রের মতো শুনছিলেন এরিক ক্যান্টোনার কথাগুলো। পর্তুগিজ তারকাকেই বেশি মুগ্ধ মনে হলো। কারণ কি এটাই যে, এক সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ৭ নম্বর জার্সি গায়ে খেলতেন ক্যান্টোনা। যখন রেড ডেভিল সমর্থকরা আদর করে তার নাম দিয়েছিল ‘কিং এরিক’।

না, অসাধারণ চেহারা আর গ্রিক ভাস্কর্যের মতো শরীরের জন্য তাকে এই নামে ডাকা হতো না। তখনো তিনি মেজাজে ছিলেন রাজার মতো। নব্বই দশকে ছিলেন ম্যানচেস্টারের সেরা তারকা। ইংলিশ ক্লাবের ফ্যানদের বিচারে একবার সর্বকালের সেরাও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই বলে তিনি যে কেবল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই খেলেছেন এমন নয়। মার্শেই, বোর্দে, লিডস ইউনাইটেড এবং ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়েও মাঠ মাতিয়েছেন। তবে সব ছাপিয়ে লোকে হয়তো তাকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্যান্টোনা হিসেবেই মনে রাখবে। আর মনে রাখবে

শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যও। যে কারণে উয়েফা তাকে লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির সঙ্গে একটা অমর উক্তির ইতিহাসও জড়িয়ে আছে।

সালটা ১৯৯৫। ক্রিস্টাল প্যালেসের এক সমর্থককে কুংফু কিক করেছিলেন ক্যান্টোনা। সেই সময় একটা প্রেস কনফারেন্সে দাঁড়িয়ে শুধু বলেছিলেন, ‘সিগাল যদি ট্রলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করে তাহলে বুঝতে হবে সার্ডিন মাছ কখন সাগরে ফেলা হবে তার আশায় ঘুরছে।’

মন্তব্যের জন্য তখন যেমন এখনো তেমনই অনন্য ‘কিং এরিক’। ফরাসিদের প্রিয় এরিক ক্যান্টোনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত