প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেছেন, সরকারের নীতি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের আগাম ধারণা করার সুযোগ রাখতে হবে। যদিও দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন শিল্প স্থাপনে সরকার করহারে ছাড় দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছে। সরকারের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্র্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফিকি সভাপতি শেহজাদ মুনিম। এ সময় ফিকির সহসভাপতি এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও ফ্রাঙ্কোয়িজ ডি ম্যারিকোট, নির্বাহী পরিচালক জামিল ওসমান উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মসিউর রহমান বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা সাজিয়েছে। যাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের সহজে আকর্ষণ করতে পারে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হলেও বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিল্পের নিরাপত্তা দেওয়া হলেও দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, দেশের কর্মক্ষম জনগণের ৩০ শতাংশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেই। আবার অনেকে আছেন যাদের উচ্চশিক্ষা থাকলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য সরকার শিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ২০৪০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ বয়স্কদের দেশে পরিণত হবে। এ জন্য দক্ষতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের উদ্যোগে (পিপিপি) বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আস্থা অর্জনে পিপিপি কর্তৃপক্ষ সফল হয়নি বলে তিনি মনে করেন। শেহজাদ মুনিম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ সব বিনিয়োগকারীর প্রধান সমস্যা সরকারের নীতি সম্পর্কে ধারণা করতে না পারা। প্রতিবছরই নীতির পরিবর্তন হচ্ছে, বিশেষ করে কর ও করহারে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা আগাম ধারণা করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ এতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাজারে দর-কষাকষি করা যায় না। এ ছাড়া সরকার ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে আসে। এরপর বিভিন্ন পদে নতুন লোকজন নিয়োগ করা হয়। আবার একই সরকারের সময়ে একই পদে একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে। এতে ওই সংস্থার অংশীজনদের কাজ করতে সমস্যা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের উদাহরণ দেন। শেহজাদ মুনিম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যখন কাজী আমিনুল ইসলামের সখ্য তৈরি হয়েছে, উনি (আমিনুল ইসলাম) যখন বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো বুঝছেন, ঠিক সেই সময়ে ওই পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আবার বিডার নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও সম্পর্ক তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। এ ধরনের পদে দীর্ঘ মেয়াদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। এ ছাড়া সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে নীতি প্রণয়নের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, বিশ^বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। অথচ সরকার বলছে চামড়া পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলে লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
