পাঠাও চালককে গলা কেটে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় নূর উদ্দিন ওরফে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
২৬ আগস্ট পাঠাও চালাক মো. মিলনকে মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চুক্তিতে না গিয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চড়তে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, মিলন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে নূর উদ্দিন ওরফে সুমন (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগ রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার কাছ থেকে মিলনের ব্যবহৃত একটি স্যামসাং জে-৫ মোবাইল সেট, দুটি হেলমেট ও ডায়াং ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে।
সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, গত ২৬ আগস্ট রাত ৩টার দিকে পাঠাও চালক মিলন যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী সুমনকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে থেকে ৫০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে গুলিস্তান নিয়ে যাচ্ছিল। ফ্লাইওভারের সবচেয়ে ওপরের অংশে পৌঁছালে মিলনকে মোটরসাইকেল থামাতে বলে সুমন। মোটরসাইকেল থামানোর পর মিলনকে নিজেই তা চালানোর কথা বলে সুমন। এতে মিলন রাজি না হলে তাদের কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন এন্টিকাটার দিয়ে মিলনের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আবদুল বাতেন আরো বলেন, হত্যার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে ডিবি। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল না। কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। ক্লুলেস ঘটনায় অপরাধীকে শনাক্ত করা ছিল কষ্টসাধ্য। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার ভোরে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, চুক্তিতে না নিয়ে অ্যাপস এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন নিরাপদ। সে জন্য চালক ও নগরবাসীর সচেতন হওয়া জরুরি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুর রহমান, ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও ইলিয়াস শরীফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
