পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৬ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর হতাহত দুজনকেই নিজেদের হেফাজতে নেয় বিএসএফ।

মঙ্গলবার সকালে বিএসএফ এর গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হতাহত দুজনের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়।

নিহত বাবুল মিয়ায় বাড়ি উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের সীমান্তের গ্রাম কালিগঞ্জে। সে ওই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। আহত সাইফুল ইসলামের বাড়ি পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামে। তার বাবার নাম গোলজার হোসেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আহত সাইফুলের ফুপুর বাড়ি সীমান্তের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে । তিন দিন আগে সে বেড়াতে গিয়েছিল সেখানে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বাইরে বের হলে ভারতীয় সীমান্তের বিএসএফের গুলিতে আহত হয়।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, আমার জানামতে সাইফুলের বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর হবে। তার পরিবারের কাছে শুনেছি তিন দিন আগে দহগ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে গেছে। মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় সীমান্তের বিএসএফের গুলিতে আহত হওয়ার খবর পাই।

তিনি বলেন, বিএসএফের আওতায় চিকিৎসাধীন থাকা সাইফুলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। ভালো থাকার কথা জানিয়েছে সে।

নিহত বাবুল মিয়ার লাশ এসে পৌঁছেনি বাড়িতে। তার মা রুবিনা বেগম বলেন, মানুষের কাছে শুনছি বাবুল বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। কিন্তু আমিতো এখনো চোখে দেখিনি। না দেখলে বিশ্বাস করব কেমনে।

তিনি জানান, বাবুল বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মঙ্গলবার সকালে ঘাস খাওয়ানোর জন্য গরু নিয়ে বের হয় বাড়ি থেকে। এরপর বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার খবর পান তিনি।

এলাকাবাসী জানান, ঘাস খাওয়ানোর জন্য বাবুলের হাতে থাকা গরু দেখে বিএসএফ ভাবতে পারে গরু চোরাকারবারি। সেটি ভেবেই গুলি করতে পারে তাকে। এরপর নিহত হলে তার লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ ব্যাপারে বিজিবির পক্ষে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবরে ওই দুজনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে সত্যতা জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত