যশোরের শার্শা উপজেলার গোরপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামীকে আটকের পর ঘুষ দাবি করে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খাইরুল ইসলাম। ঘুষ না পেয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তবে ফাঁড়ি ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গতকাল সকালে ওই গৃহবধূ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এসে দাবি করেন, তার মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে। তাকে গোরপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খাইরুল ইসলাম ধর্ষণ করেছে। হাসপাতালের কর্মীরা পুলিশ ছাড়া তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর তাকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদের কাছে পাঠানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক বিয়য়টি যশোর কোতোয়ালি থানার ওসিকে জানান।
হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি যশোর কোতোয়ালি থানার ওসিকে বিষয়টি জানালে তিনি হাসপাতালে এসে ওই নারীকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
পুলিশ সুপার মঈনুল হক ওই নারীর কাছ থেকে তার অভিযোগ শুনে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগটি গুরুতর। বিষয়টি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শার্শা থানায়। সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যশোরের শার্শা লক্ষ্মণপুরের বাসিন্দা ওই গৃহবধূর অভিযোগ, নয় দিন আগে গোরপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম তার স্বামীকে রাত ১১টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে আটক করে। সকালে তিনি জানতে পারেন তার স্বামীকে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটকের মামলার দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এসআই খায়রুলসহ চার ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে ডেকে দরজা খুলতে বলেন। খায়রুল ইসলামের সঙ্গে তার গ্রামের দুই ব্যক্তিকে দেখে দরজা খোলেন তিনি।
ওই গৃহবধূর দাবি, দরজা খুললে এসআই খায়রুল ও কামারুল নামে এক ব্যক্তিসহ ঘরে ঢোকেন। খায়রুল তাকে বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিলে তার স্বামীকে ৫৪ ধারায় আটকের চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি ৫৪ ধারা কী জানতে চান। এ সময় এসআই খায়রুল বলেন, এই ধারায় তার স্বামী সহজে জামিন পাবেন। তখন তিনি টাকা দিতে না চাইলে তাদের সঙ্গে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে খায়রুল অন্য ব্যক্তির উদ্দেশে বলেন, ‘ধর’, এরপর ওই দুজন তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন লক্ষ্মণপুর গ্রামের আবদুল লতিফ ও আবদুল কাদের।
শার্শা থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, এমন ঘটনা সঠিক নয়। নিশ্চয়ই কেউ ইন্ধন দিচ্ছে। অভিযুক্ত এসআই খায়রুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তার স্বামীকে আটক করেছি, তবে সোমবার রাতে ওই বাড়িতে যাইনি।’ এছাড়া তিনি কামারুল নামে কাউকে চেনেন না।
পাবনার স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ : পাবনার সাঁথিয়া কাশীনাথপুরে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী আবদুল্লাহর (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রীর মা একটি রেস্টুরেন্টে রান্নার কাজ করেন। ঘটনার দিন মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে তিনি হোটেলে আসেন। কাজের এক ফাঁকে হোটেলবয় আবদুল্লাহ তার শিশুকন্যাকে ফুঁসলিয়ে হোটেলের দোতলায় নিয়ে নির্যাতন চালায়। পরে তিনি তার মেয়েকে দোতলায় খুঁজে পান। এ সময় তার মেয়ে তাকে বিষয়টি জানায়।
মা আরও জানান, এ ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী শোনার পর তারা এর একটি মীমাংসা করবেন বলে তাকে থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করেন। এ সময় নির্যাতিতা শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা করানো হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনো বিচার না পেয়ে শিশুর মা সোমবার থানায় মামলা করেছেন।
মনোহরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ : নরসিংদীর মনোহরদীতে ১৪ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দেড় লাখ টাকা দিয়ে প্রভাবশালীরা চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন মাস আগে বীর মাইজদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় দুলাল মিয়াকে (৬৫) বাঁচাতে দেড় লাখ টাকায় আপসের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানউদ্দিনের শরণাপন্ন হলে চেয়ারম্যান গতকাল তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষিতা কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর দুলাল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জে প্রতিবন্ধী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক প্রতিবন্ধীকে (২১) ধর্ষণের অভিযোগে রাকিব হোসেন ওরফে সেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মুকসুদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে রাকিব ওই প্রতিবন্ধী মেয়েকে একটি পেয়ারা দিয়ে তাদের গোয়ালঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় থানায়। রাতেই রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নেত্রকোনায় গৃহকর্মী ধর্ষণের শিকার : নেত্রকোনা দুর্গাপুরে গৃহকর্মী কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক সাফিউল্লাহ ওরফে এমদাদ বেলালীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এমদাদ বেলালী উপজেলার মধুয়াকোনা এ ইউ আলম মাদ্রাসার ইবতেদায়ি কারি শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্ডিগর মধুয়াকোনা গ্রামের এমদাদ কাজীর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত ওই কিশোরী। এমদাদ বেলালী কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসছিল। গত ১৮ আগস্ট বিষয়টি জানাজানি হলে মীমাংসার চেষ্টা করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরে গত সোমবার রাতে কিশোরীর মা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। ওই কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
