মহাসড়কে টোল বসানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১১ এএম

উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের মহাসড়কেও টোল বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আদায়কৃত টোলের টাকা রাখার জন্য একটি আলাদা অ্যাকাউন্ট করতে হবে। সে অর্থ মহাসড়ক সংস্কারে ব্যয় হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে দেশের ‘২১টি মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়ে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও বড় বড় মহাসড়ক, যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এসব মহাসড়কে টোলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, টোলের মাধ্যমে আদায় করা টাকা রাখার জন্য একটি আলাদা অ্যাকাউন্ট করতে হবে। সেই টাকা দিয়ে মহাসড়কগুলো সংস্কার করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিজে আমরা টোল নিই। সড়ক নয়, জাতীয় মহাসড়কগুলোতে থাকা ব্রিজ ছাড়াও রাস্তার ওপর টোল বসানো হবে। সারা বিশ্বে তা-ই আছে। টোলে কত টাকা নির্ধারণ হবে, সেটা ঠিক করব এখন। কারণ এভাবে আর পারা যাবে না।’

সরকারপ্রধানের নির্দেশ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টাকা ব্যয় করা হবে রাস্তা মেরামতে। পশ্চিমা দেশে এটা খুবই জনপ্রিয়। এটাকে তারা বলে ‘ইউজার পেইড’ বা ব্যবহার করেন, পেমেন্ট করেন।”

কীভাবে টোল আদায় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ মান্নান বলেন, ‘বিদেশে আমরা যেটা দেখেছি, সেকশন সেকশন হয়। ধরুন, ২০০ মাইল রাস্তা। প্রত্যেক ৫০ মাইল রাস্তায় একটা গেট থাকে। স্থানীয় গাড়িগুলো ১০ মাইল গিয়ে আরেক রাস্তায় গেলে টোল আসবে না। লং ডিসট্যান্স ট্রাভেলারদের (দূরবর্তী যানবাহন) জন্য এটা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কাজ করবে আমাদের প্রকৌশলীরা। এখানে অযৌক্তিক কিছু হবে না।’

২১টি মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন আছে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে কেউ যাতে ট্যাম্পারিং করতে না পারে। এটা সময়ের দাবি। কিন্তু এমন সিস্টেম করতে হবে যাতে লোক থাকুক আর নাই থাকুক, এর ওপর দিয়ে গাড়ি গেলেই যেন গাড়ির নাম, নম্বর, ওজন এবং বিস্তারিত উঠে যায়। এসব তথ্য যেন কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো একটি জায়গা থেকে মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানগুলো যেন নির্দিষ্ট মাপের তুলনায় বেশি না হয়।’

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনবল যেন আগে থেকেই নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যবস্থা প্রকল্পের মধ্যেই থাকতে হবে, যাতে প্রকল্প শুরু হলে জনবলের কারণে বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত না হয়।’

কারাগার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিষয়ে এমএ মান্নান বলেন, ‘দেশের সব জেলখানায় ভার্চুয়াল সিস্টেম (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কারাগারে থেকেই আসামিদের হাজিরার ব্যবস্থা) স্থাপন করতে হবে, যাতে দুর্ধর্ষ আসামিদের জেল থেকে আদালতে টানাটানি করতে না হয়। যেসব আসামির ছিনতাই বা অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে, সেসব আসামিকে ক্যামেরার মাধ্যমে এজলাসে বসেই বিচারক যাতে বিচার করতে পারেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত