আসামে বিভাজনের রাজনীতিকে এদেশে সুযোগ দেওয়া যাবে না

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:২৯ পিএম

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদ অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতি, সহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসবাদ, শরণার্থী ও অভিবাসন, গণহত্যা এবং নারী ও পরিবেশ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অধ্যাপক এখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। আসামের এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন এবং প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। প্রবীণ এই অধ্যাপক মনে করেন আসাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ না থাকলেও সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ভারতে চলমান বিভাজনের রাজনীতির সূত্র ধরে যাতে বাংলাদেশে কেউ রাজনীতির সুযোগ না পায় সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : শনিবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ‘এনআরসি’ বা জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা প্রকাশ হলো। এ তালিকা থেকে রাজ্যটির ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন বাঙালি বাসিন্দা বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া বাঙালিদের বেশিরভাগই হিন্দু, বাকিরা মুসলিম। ভারতের ভেতরে-বাহিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি করা ‘এনআরসি’ নিয়ে বাংলাদেশেও অনেক জল্পনা-কল্পনা ও উদ্বেগ রয়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? 
ইমতিয়াজ আহমেদ : সম্প্রতি বিজেপি টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করেন। গত মাসের এই সফরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ভারতের এই অবস্থানের কথা জানিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রথমত, আমি মনে করি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই বক্তব্যকে আমাদের আমলে নেওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, আমরা দেখছি যে বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশের যতগুলো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে; কোনো বৈঠক বা দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেই কিন্তু আসামের এনআরসি কখনোই কোনো এজেন্ডাতেই ছিল না। ফলে আমরা কেন আগ বাড়িয়ে এটা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা বলব?

দেশ রূপান্তর : আসামের মন্ত্রীসহ ভারতের রাজনীতিকরা বহুবার আসামের এনআরসি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কথা বলেছেন, তাদের ভাষায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ এসব বাসিন্দাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।
ইমতিয়াজ আহমেদ : যারা রাজনীতিবিদ আছেন, তারা অনেক সময় অনেক কথাই বলেন। আসামের কোন মন্ত্রী কী বললেন সেটাকে কেন আমরা আমাদের পত্রিকায় ফলাও করে ছাপব? আমরা কেন তাদের এখানে স্পেস ছেড়ে দেব? তারা তো দেখাতে চাইবেনই যে শুধু আসামই নয়, বাংলাদেশেও তাদের পরিচিতি আছে। আসলে বাংলাদেশ মাঝেমধ্যে ভুলে যায় যে সে পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশ (জনসংখ্যার হিসাবে), বাংলাদেশের গণমাধ্যম বা পত্রপত্রিকাও যে এটা ভুলে যায় তাতে আমি অবাক হই। আর দ্বিতীয় যে কথাটি বলা প্রয়োজন সেটা হলোÑ ‘পলিটিকস অব নাম্বার্স’ বা ‘সংখ্যার রাজনীতি’ যারা করেন, তারা বহু বছর ধরেই এ কাজটি করে যাচ্ছেন। সেটা কিন্তু এখন চুপসে গেছে। প্রথমে তো তারা বলছিলেন যে, ৪০ লাখের ওপরে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আসামে রয়েছে। এখন দেখা গেল সেটা ১৯ লাখের মতো। প্রথমে যেভাবে তারা বলছিলেন, তাতে বলা হচ্ছিল যে বাংলাদেশ থেকে মুসলমানরা এসে আসামকেই একেবারে মুসলমান বানিয়ে ফেলেছে। এখন দেখা গেল যারা বাদ পড়েছেন, তাদের বড় অংশই হিন্দু। ফলে সংখ্যার রাজনীতিতেও কিন্তু তারা ধোপে টিকছেন না।

দেশ রূপান্তর : বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও আসামের এনআরসি প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করে এ ধরনের কথা বলেছেন। বিজেপি নেতারা একই সঙ্গে বলেছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নির্যাতিত হিন্দুদের তারা ভারতে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত। এজন্য পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের কথাও তারা বলছেন। আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়া হিন্দুদেরও এই প্রক্রিয়ায় ‘বৈধ করার’ কথাও ইতিমধ্যে উচ্চারিত হয়েছে।     
ইমতিয়াজ আহমেদ : এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা সাংবিধানিক হবে কি না, সেটা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে টিকবে কি না এসবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এটা ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, তাদের আইন-কানুন এবং সেদেশের সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের বিষয়। এসব তো আমাদের বিষয় না। তবে, যেহেতু তারা এটা বলছেন তার মানে হলো যে উনিশ লাখ বাদ পড়েছে তার মধ্যে এগারো লাখের মতো হিন্দু নিয়ে তারা অত ভাবছেন না; বাকি আট লাখ বা মুসলমানদের নিয়েই তাদের সমস্যা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ওই আট লাখের মধ্যেও ভারতের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরাও আছেন। এসব নিয়ে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আবার ওই আট লাখ নিয়ে এই আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে যে, নাগরিকত্ব বা ভোটের অধিকার না দিয়ে তাদের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ দিয়ে সেখানে রাখা যায় কি না।

দেশ রূপান্তর : আপনি তাহলে বলছেন যে, আসামের এনআরসি নিয়ে এখনই বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই?
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমি বলছি উদ্বিগ্ন হওয়া নয়, সতর্ক হওয়া দরকার। সতর্কতাটা এই যে, কেউ যেন আসামে বিভাজনের রাজনীতির সূত্র বাংলাদেশের ভেতরে রাজনীতি শুরু করার সুযোগ না পায়। সে সুযোগ দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের ভেতরেও ভারতবিরোধী রাজনীতি আছে, সেটা অস্বীকার করলে চলবে না। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গোষ্ঠীও আছে, এটাও অস্বীকার করার জো নেই। ফলে, এমন কোনো গোষ্ঠী যাতে এটাকে ইস্যু বানিয়ে ফায়দা হাসিল করার সুযোগ না পায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আরেকটা বিষয় হলো উদ্বেগ তো থাকবেই।  আজ যদি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে মাইনোরিটি বা অভিবাসীরা কোনো হুমকির মুখে পড়ে তাহলেও আমরা উদ্বিগ্ন হই কেননা সেখানে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ রয়েছে। আর ভারত তো কেবল আমাদের প্রতিবেশীই নয়, ভারতের জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে।

দেশ রূপান্তর : সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ পৃথিবীতে ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৮ লাখ। যার মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাবে ৯ লাখ ৬ হাজার ৬৩২) আশ্রয় দিয়ে এই মুহূর্তে বিশে^র একক বৃহত্তম ‘রাষ্ট্রহীন মানুষের’ আশ্রয়দাতা দেশ। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাংলাদেশ নানামুখী সংকটে রয়েছে। এ বিষয়টি কি আসামের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের বিশেষ উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন?   
ইমতিয়াজ আহমেদ : রোহিঙ্গা ইস্যুকে আসামের এনআরসির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। কেননা, আসাম নিয়ে রাজনীতি বহু পুরনো। এ আলোচনা কিন্তু বাংলাদেশেও বহুদিন ধরেই চলছে। আসামের ‘বাঙ্গাল খেদা’ আন্দোলনের ইতিহাসও অনেক পুরনো। ‘বাঙ্গাল খেদা’ আন্দোলনে আসামে আশির দশকে বড় ধরনের গণহত্যাও হয়েছে। কংগ্রেস এটা নিয়ে রাজনীতি করেছে, বিজেপি এটা নিয়ে এখন রাজনীতি করছে, এমনকি উলফাও এ নিয়ে দীর্ঘদিন সশস্ত্র কর্মকা- চালিয়েছে। উলফার মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো বলত যে, এটা আসলে বাংলাদেশবিরোধী না, দিল্লিবিরোধী। আসামের ইস্যুটা মাইনোরিটির, সেখানকার বাঙালি মুসলিম মাইনোরিটি, সঙ্গে হিন্দু মাইনোরিটিও আছে। এখানে খেয়াল করতে হবে যে দিল্লিও এটা জানে যে, বাংলাদেশেও হিন্দু মাইনোরিটি আছে। ফলে দিল্লির এ নিয়ে সতর্ক থাকারই কথা।

দেশ রূপান্তর : এখানে আরেকটা বিষয় প্রাসঙ্গিক কারণেই উল্লেখ করতে চাই। গত দুই দশকে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র তৎপরতা এবং আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বিষয়ে ভারতের সহায়তা ছিল বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে, উলফাসহ ভারতের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা এবং তাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আসামের বর্তমান সংকট এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই পারস্পরিক সহায়তা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করেন কি?
ইমতিয়াজ আহমেদ : এখানে খেয়াল করা দরকার বাংলাদেশের একটা গোষ্ঠী বা একটা রেজিম উলফাকে যে সাহায্য করেছিল, তারা কোন ধারণা থেকে কীসের ভিত্তিতে সেটা করেছিল তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। কিন্তু উলফা জন্মগতভাবেই বাঙালিবিরোধী। বাঙ্গাল খেদা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই উলফার জন্ম হয়েছে। তবে, একটা ধারণা করা যায় যে, তারা হয়তো ভেবেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একসময় যেহেতু ভারতে আশ্রয়-প্রশয় পেয়েছিল, ফলে আমরা এখন সেদেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করলে তারা হয়তো সেটা বন্ধ করবে। তবে আসলেই এরকম হয়েছে কি না জানি না, এগুলো ধারণা করা হয়। পরে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ বড় একটা সহায়তা ভারতকে দিয়েছে। ফলে, ভারত কেন ওই সহায়তাটা নষ্ট করতে যাবে। এটা ভারতের অনুধাবন করার কথা যে, ভৌগোলিক কারণেই এ বিষয়ে বাংলাদেশের সহায়তা ভারতের প্রয়োজন। এটাও হয়তো আসাম নিয়ে বড় আকারে উদ্বিগ্ন না হওয়ার একটা কারণ হতে পারে।

দেশ রূপান্তর : আপনি ‘বাঙ্গাল খেদা’ আন্দোলনের কথা বলছিলেন। আরেকটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে বঙ্গভঙ্গের সময় ‘পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ’ হয়েছিল। সাতচল্লিশে ভারতভাগের সময় পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির জন্য সিলেটের মতো আসামেও গণভোটের দাবি তুলেছিলেন মওলানা ভাসানী। আজকের সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি নেতৃত্ব কি বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন? বাঙালি-সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ইমতিয়াজ আহমেদ :  এ প্রসঙ্গে প্রথমে যে কথাটা বলা প্রয়োজন সেটা হলো যে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হলো সেটা কিন্তু মুসলিম লীগ বা মুহম্মদ আলী জিন্নাহর হাত দিয়েই প্রথম আসেনি। ভারতের রাজনীতিতে দ্বিজাতিতত্ত্বের জনক হলো আজকের বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা ‘আরএসএস’। সাতচল্লিশের বহু আগেই ১৯২৫ সালে আরএসএস-এর জন্মের সময়েই উগ্র হিন্দুত্ববাদী ধারণা নিয়ে ভারতে দুই জাতির তত্ত্বকে উসকে দিয়েছিল তারা। ভারতে আজ যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি চলছে তা নিয়ে কিন্তু সে দেশের বহু মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়েছেন। অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে অরুন্ধতী রায়সহ সেখানকার লেখক-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরা একে ভারতে উল্টোপথে যাত্রা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষভাবেই ওই দ্বিজাতিতত্ত্বকে ছুড়ে ফেলে এসেছে। জাতিভেদের বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, সারা বিশে^র মানুষের কাছে একটা অনন্য উদাহরণ হিসেবে অনুসরণীয় বলে মনে করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত